গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে আগামীকাল (১১ জুলাই) রংপুর জিলা স্কুল মাঠে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছে জোটটি।
সমাবেশ উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুরে এসে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসমর্থন কামনা করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকার গণভোট-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। এতে নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল, তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এ দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। সংসদেও প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মাওলানা আব্দুল হালিম কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফেলানী হত্যাসহ সাম্প্রতিক সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ ও সাধারণ মানুষের হয়রানি নিরসনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আগামীকালের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে রংপুর বিভাগের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি দলে দলে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি।
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
আয়োজকদের দাবি, রংপুর বিভাগের আট জেলায় সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও প্রস্তুতি কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত অংশগ্রহণকারীদের জন্য মাঠের অবকাঠামো, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রেস
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী অঞ্চল
পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-৩
আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর
রহমান বেলাল, সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও রংপুর মহানগর
জামায়াতের আমির এটিএম আজম
খান, সদস্যসচিব কে এম আনোয়ারুল
হক কাজল, রংপুর জেলা আমির ও
রংপুর-৫ আসনের সংসদ
সদস্য গোলাম রব্বানী, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ
সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর-১ আসনের সংসদ
সদস্য রায়হান সিরাজীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের
বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।