রংপুর অঞ্চলের চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে চিনাবাদাম উৎপাদন দুই‘শ কোটি টাকার চিনা বাদাম উৎপাদনের সম্ভনার আশা করছেন চাষী ও কৃষি বিভাগ|এবার বাদামের মূল্য প্রাপ্তিতে অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে|প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে গড়ে সাড়ে ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকায়|এ মৌসুমে ৫ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জমি বাদাম চাষ হয়েছে|বাদাম তোলার পুরো মৌসুম শুরু না হতেই কৃষকরা অধিক মূল্য পেয়ে বেজায় খুশি|
চলতি রবিমৌসুমে এই রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার চরাঞ্চলে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার পাঁচ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জমি থেকে ১২ হাজার ২৪৫ টন চিনাবাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে| এতে উৎপাদন হবে ১২ হাজার ২২১ টন চিনা বাদাম|
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরন শর্মা চরের বাদাম চাষি মোঃ কোরবান আলী আলী জানান, এ বছর একর প্রতি চিনামবাদাম হয়েছে ২৪ থেকে ২৮ মণ| উৎপাদন খচর হয়েছে প্রতি একরে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা| কোন বালাই না আসলে তিনি খরচ বাদে প্রতি একর প্রতি লাভ করবেন এক লাখ টাকা|
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরের বজরাচরের বেলকা,বজরা গ্রামের চরাঞ্চলের চাষি মোক্তার হোসেন, মোহাম্মদ আলী জানান,এ মৌসুমে চিনাবাদামের ফলন ভালো হয়েছে| পাইকারের কাছে গড়ে ছয় হাজার ৫‘শ টাকা মণ দরে বিক্রি শুরু হয়েছে| গতবছর এই সময়ে চিনাবাদামের দাম ছিল তিন হাজার ৫‘শ থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত| এবার আল্লাহ আমাদের উপর রহমত করেছেন|বাদাম চাষে লাভ ভালো হচ্ছে| আগে কখনো এরকম লাভ হয়নি|
কৃষিসম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে,চলতি রবি মৌসুমে রংপুরঅঞ্চলের পাঁচ জেলা রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও নীলফামারীজেলায় পাঁচ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জমি থেকে ১২ হাজার ২৪৫ টন চিনা বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে| চিনাবাদাম চাষে উৎপাদন হবে ১২ হাজার ২২১ টন| এসব বাদাম কৃষক পর্যায়ে বিক্রি শুরু হয়েছে ছয় হাজার ৬‘শ টাকা থেকে ছয় হাজার ৫‘শ টাকা| এই অঞ্চলের কৃষকরা এবার ১৯৮ কোটি ৫৯ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকার চিনাবাদাম বিক্রি করবেন| যা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি| কৃষকরা দাম পেয়ে বেজায় খুশি|
রংপুর কৃষিসম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ সিরাজল ইসলাম জানান, এবার কৃষকরা অবশেষে পাঁচ হাজার ৭৪৮ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছেন যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ১২ হেক্টর বেশি|চিনাবাদাম তোলা শেষে গড়ে প্রতিহেক্টরে ২ দশমিক ১৩ টনহারে ১২হাজার ২২১ টন চিনাবাদাম উৎপাদন হয়েছে|
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিসম্প্রসারণ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ সাদেকুর রহমান জানান,ক্রমবর্ধমান খাদ্য শিল্পে নগদ ফসলের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে রংপুর কৃষি অঞ্চলে চিনাবাদামের চাষ ও উৎপাদন উভয়ই প্রতি বছর বাড়ছে| কৃষকরা কম খরচে চিনাবাদাম চাষ সম্প্রসারণ করছেন এবং লাভজনক মুনাফা অর্জন করছেন| এ ক্ষেত্রে কৃষিসম্প্রসারণ বিভাগকে কৃষকদের আরো উৎসাহিত করে ভালো বীজ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ মাঠপর্যায়ে অব্যাহত রাখতে হবে| বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের চিনাবাদাম রংপুরের অঞ্চলের চরাঞ্চলের কৃষকরা লাভজনক দামে চিনাবাদামের বাম্পার ফলন পাচ্ছেন| উপযুক্ত ফসলের নকশা ও মিশ্র-আবর্তন পদ্ধতি অবল¤^ন করে নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে এবং মূল জমিতে চিনাবাদাম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে চিনাবাদাম চাষের আরো বাড়ানোর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে|