বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি পুকুরে চলছে খনন ও শোভাবর্ধন কাজ


প্রকাশ :

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তে অবস্থিত দু'শ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি পুকুরের তলদেশ পলি জমে ভরাট হয়েছে।

বাংলাদেশের সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে পুকুরের সীমানা নির্ধারণ,তলদেশের গভীরতা বৃদ্ধি, পুকুরের পাড় প্রস্থকরণ,শোভাবর্ধনের মহাকর্মযজ্ঞ লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের তদারকির মাধ্যমে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াো চলমান রয়েছে।

দু'শ বছর পুর্বে উনবিংশ শতাব্দীতে মানুষের পানির চাহিদা পুরনের জনপ্রিয় উৎস ছিল খাল,বিল,পুকুর/দীঘি,কুপ।

জমিদার রাম নারায়ণ চক্রবর্তী এ জনপদে বসবাসকারী হিন্দু মুসলিম মানুষের শুধুমাত্র পানির চাহিদা পুরনে পুকুরটি খনন করেছিলেন এ অঞ্চলের ততকালীন জমিদার রাম নারায়ণ চক্রবর্তী। 

সরেজমিনে,দু'শ বছর পুরোনো ১৬.৫ একর আয়তনের পুকুরে কয়েকটি ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি উত্তোলনে তলদেশ এখন দৃশ্যমান।কয়েকটি ভেকু মেশিনে মাটি কেটে ট্রাক্টর মাধ্যমে অপসারণ করে পাড় সম্প্রসারণ করতে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি সংস্কার কাজ বাস্তবায়িত হলে রাম নবমীর স্নান ও মেলায় আগত উপচে পড়া মানুষের উপস্থিতির চরম দুর্ভোগ লাগব হবে।এছাড়াও প্রতিদিন দেখতে আসা মানুষের জন্য মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করে দৃষ্টিনন্দন করা সময়ের দাবি। 

পুকুরের পাড় সম্প্রসারণ ও মাটি ভরাট কাজ বাস্তবায়ন হলে ফিরে আসবে পুরোনো ঐতিহ্য।তারা আরো বলেন বিগত বিএনপি সরকারের আমলে দুলু মন্ত্রী সিন্দুরমতি পুকুর পাড়ে একটি ঘাট ও পূর্ণ স্নানে আগত সনাতনীদের জন্য একটি ফ্রেশ রুম নির্মাণ ও প্রতিদিন পুকুর দেখতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য বসার ব্যবস্থাসহ সহ শোভাবর্ধক বৃক্ষ রোপণ করেছিলেন।

ইতিহাস ও স্থানীয় নবীন প্রবীণরা জানান দুশ বছর আগে এ অঞ্চলে বসবাসকারীদের মাঝে জীবন জীবীকার জন্য একমাত্র পানির সংকট ছিল।প্রজাদের জন্য পানির ব্যবস্থা করতে ততকালীন জমিদার রাম নারায়ণ চক্রবর্তী পানি সন্ধান গভীর পুকুর খনন করেন।

পুকুর খনন কাজ শেষ হলেও প্রজাদের পানির সন্ধান মিলেনি।পরবর্তীতে জমিদার রাম নারায়ণ চক্রবর্তীর স্বপ্নে দেবী গঙ্গা স্বপ্নে আসেন।সেই স্বপ্নেই জামিদারকে জানান তাহার দুই কন্যা সন্তান সিন্দুর ও মতিকে পুকুরের তলদেশ পূজার জন্য।স্বপ্নের আদেশ অনুপাতে পুঁজা শেষ নাহতেই পুকুরের তলদেশে হইতে দ্রুত পানি উঠে পুকুর ভরে ওঠে এবং এসময় সবাই বেঁচে উঠলেও সিন্দুর ও মতি দুবোন পানিতেই নিখোঁজ হয়।তাদেরই নামে পুকুরের নামকরণ হয় সিন্দুরমতি পুকুর/দীঘি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আসাদুল হাবিব দুলুর আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক পুকুরটির খননকাজ এবং সৌন্দর্য বর্ধন হলে এটি লালমনিরহাটের পর্যটন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান হিসেবে আরো বেশি সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন হবে। জেলা প্রশাসন, লালমনিরহাট এটি বাস্তবায়নের কাজ তদারকি করছে।