বাংলাদেশে তামাকজাত পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে তরুণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক ব্যবহার ও ধূমপানের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিগারেটের সহজ প্রাপ্যতা কমাতে এবং তামাকের ক্ষতি থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের উপর কার্যকর করারোপ ও মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে সমাবেশ ও র্যালী করেছে আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিয়িং-এর সদস্যসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী।
সকালে (১৬ এপ্রিল’২৬) শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিয়িং আয়োজিত সমাবেশে তরুণরা বলেন, প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮ শতাংশের বেশি। এই অকাল মৃত্যু রোধ করতে তামাকপণ্যকে তরুণদের নাগালের বা ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে। আর এটা করতে হলে কার্যকরভাবে করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের দাম বাড়াতে হবে।
এ সময় তরুণরা বলেন, তামাক খাত থেকে যেখানে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়, সেখানে তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা রাজস্ব আয়ের তুলনায় প্রায় ১১৫ শতাংশ বেশি। এই ক্ষতি পুষাতে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের তুলনায় তামাকদ্রব্য খুবই সস্তা। প্রতিবছর মূল্যস্ফীতি ও আয়বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি না হওয়ায় এসব পণ্য ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থেকে যায়। ফলে তরুণদের কাছে তামাকপণ্য তুলনামূলকভাবে সস্তা ও সহজলভ্য হয়ে পড়ে, যা তামাক ব্যবহার হ্রাসে তেমন কার্যকর প্রভাব ফেলে না। তাই কার্যকরভাবে দাম বৃদ্ধি না করলে তামাকপণ্য তরুণদের নাগালের মধ্যেই থেকে যাবে এবং তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বৃদ্ধি পাবে।
এ সময় ইয়ুথ ফোরামের সদস্য তাসনিয়া তানজিম সারা জানান, সিগারেটের চার স্তরের মূল্য কাঠামোর কারণেও সিগারেট সস্তা ও সহজলভ্য থেকে যাচ্ছে, যা তরুণদের তামাক ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সকল স্তরে ৬৭% সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।
কার্যকর করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধি তরুণদের ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত করবে এবং বর্তমান ব্যবহারকারীদের ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত করবে। প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লক্ষাধিক তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে এবং ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৩৩৫ জন তরুণ জনগোষ্ঠির অকাল মৃত্যরোধ করা সম্ভব বলে জানান, ইয়ুথ ফোরামের আরেক সদস্য তাসনিম হাসান আবীর।
তিনি আরও জানান, এই কর সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি তামাক কর রাজস্ব অর্জন করতে পারবে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই অতিরিক্ত রাজস্ব স্বাস্থ্যখাত সংস্কার ও তামাকব্যবহারজনিত সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী ও ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।