বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে জমে উঠেছে নির্বাচনের লড়াই,প্রার্থীদের নজরে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকে!


প্রকাশ :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সর্বউত্তরের সীমান্তবর্তী আসন লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম)আসনে এ নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। তিস্তা নদী, বন্যা-ভাঙন, কর্মসংস্থান ও মাদক নিয়ন্ত্রণ—এই চারটি ইস্যুকে সামনে রেখে ভোটের মাঠে চলছে প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটি দুইটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৩ জন। আসনের পূর্ব ও উত্তরাংশ ভারত সীমান্তবেষ্টিত এবং পশ্চিমাংশ তিস্তা নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত। শিল্পকারখানা না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষ প্রধানত কৃষিনির্ভর জীবনযাপন করে আসছে।

তিস্তা নদীর ভাঙন ও আকস্মিক বন্যায় প্রতিবছর লাখ লাখ হেক্টর আবাদি জমি ও ফসল নষ্ট হচ্ছে। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন কৃষকরা। দীর্ঘদিনের এই সংকটকে ঘিরেই ভোটের রাজনীতিতে বারবার উঠে আসছে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের দাবি।

এ আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন রাজু এবং জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তুরস্কপ্রবাসী ব্যবসায়ী শিহাব আহমেদ (ঘোড়া প্রতীক), আবু সামা মো. রেদওয়ানুল হক (তালা প্রতীক)সহ আরও কয়েকজন প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

ভোটের মাঠের হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও একসময় জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনটি ২০০১ সালের পর থেকে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক কার দিকে যাবে—সেটিই হতে পারে ফলাফলের বড় নির্ধারক।২০০১সালে মহাজোটে নৌকা থেকে মোতাহার হোসেন পেয়েছিল ১লক্ষ ৪০হাজার ভোট আর চারদলীও জোট প্রার্থী এরশাদ হোসেন সাজু পেয়েছিল ৭৮হাজার ভোট।


এবারে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী  হাসান রাজীব প্রধান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মশিউর রহমান রাঙ্গা (লাঙ্গল)- মাঝে লড়াই হবে।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধানই তাদের কাছে মুখ্য।তিস্তা এলাকার কৃষক আব্দুল হক বলেন, “যে তিস্তা নদীতে স্থায়ী বাঁধ দেবে, তাকেই ভোট দেব।” সিন্দুরনা এলাকার তুহিন জানান, কৃষি উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই তার ভোট মিলবে। নতুন ভোটার রিমনের  ভাষায়, “মাদক বন্ধ আর চাকরির ব্যবস্থা চাই—যে পারবে, তাকেই ভোট।”

এবারের নির্বাচনে তরুণ ও প্রথমবার ভোটারদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। অনেকের মতে, এই তরুণ ভোটাররাই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে লালমনিরহাট-১ আসনের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

লালমনিরহাট ১  আসনের বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব  প্রধান বলেন, তিনি এই আসন থেকে নির্বাচিত হলে তিস্তা পারের মানুষ  এতদিন যে বৈষম্যের রাজনীতির শিকার  হয়েছিল সেই বৈষম্য  দূর করবেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন আর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমির পরিমাণ যেমন বৃদ্ধি পাবে পাশাপাশি এই অঞ্চলের বেকার যুবকের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে। তরুণ ও যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে আমরা খেলাধুলা এবং পড়ালেখার পরিবেশ সৃষ্টি করে দিব।  বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেকটা পরিবারের ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। আমি ক্ষমতায় আসতে পারলে কোন দুর্নীতি আমার পাশে আসতে পারবে না। আমি ১০০% সততার সাথে  আমার দায়িত্ব পালন করবো ইনশাল্লাহ। 

জামায়েত ইসলাম এর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন রাজু বলেন,এই এই আসন থেকে আমি নির্বাচিত হলে  হাতীবান্ধা পাটগ্রাম-উপজেলায় সুদ-ঘুষ বন্ধ হয়ে যাবে। আমি নিজেও ঘুষ খাব না কাউকে ঘুষ খেতেও দিবো না।  একমাত্র জামায়াতে ইসলাম ই পারবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে।যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার সকল ব্যবস্থা করে দিবেন। বেকার যুবসমাজকে বিশেষ ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করে জনসম্পদে পরিণত করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে দিবেন। 

জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব বলেন, এই জীবনে আমি অনেক কিছুই পেয়েছি, আমার আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। এখন শুধু আমার দেবার পালা।এই এলাকা আমার জন্মভূমি।আপনারা আমাকে নির্বাচিত করলে, এই এলাকার বেকার সমস্যা থেকে শুরু করে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা সহ সকল উন্নয়ন আমি করতে পারবো। 

স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বসে নেই। তারাও এই এলাকার তিস্তা পাড়ের  মানুষের দ্বারে দ্বারে  গিয়ে ভোট চাইছেন। তারাও তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, মাদকের চোরাচালান, চিকিৎসা সেবার মান উন্নত করন এবং জনজীবনের নিরাপত্তা সহ নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা আর পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কাদের হাতে এই আসনের দায়িত্ব তুলে দেয়।