রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

বন্যার পানি সঙ্গে ভেসে গেলো কৃষকের স্বপ্ন!


প্রকাশ :

টানা তিন দিন পরে বন্যার পানি নেমে গেলে ভেসে উঠে ক্ষত। বন্যা পরিস্থিতির  উন্নতি হলেও দুর্ভোগ বেড়েছে লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ে। রোপা আমন ক্ষেত পঁচে গেলে নষ্ট হওয়ায় দুঃচিন্তার ভাঁজ পড়েছে তিস্তাপাড়ের কৃষকদের কপালে সেই সাথে তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন।  

জানা গেছে, উজানের ঢল ও টানা ভারি বৃষ্টিতে হু হু করে বাড়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ। গেল সোমবার রাতে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বিপদসীমা অতিক্রম করে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্যায় প্লাবিত হয় তিস্তা নদীর বাম তীরের জেলা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার অধিকাংশ এলাকা। টানা তিন দিনের বন্যায় ডুবে যায় নদী তীরবর্তি অঞ্চলের ফসলি ক্ষেত। পানিবন্দি হয়ে পড়ে জেলার প্রায় কয়েক হাজার পরিবার। পানি তোরে ভেসে গেছে মৎস চাষিদের পুকুরের মাছ। বিশেষ করে ১৫ হেক্টর আমন ক্ষেত ও বীজতলা ডুবে যাওয়ায় কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তিস্তাপাড়ে। রবিবার পানি কমে গেলে জেগে উঠে বন্যার ক্ষত। 

আমনের লাগানো চারা বন্যার পানিতে পঁচে গলে নষ্ট হয়েছে। অধিকাংশ খেতে শুধু মাটি বালু পড়ে রয়েছে, নেই কোন আমনের চারা। কিছু খেতে চারা গাছ দেখা গেলেও শুক্রবারের প্রচন্ড রোদে তা গলে পঁচে নষ্ট হচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে দ্বিতীয় দফার বন্যায় নষ্ট হওয়া আমন খেতে নতুন করে চারা লাগান নদী পাড়ের কৃষকরা। সেটাও তৃতীয় দফার বন্যায় ৩/৪ দিন ডুবে থেকে নষ্ট হয়েছে। নতুন করে লাগানোর মত চারা নেই অধিকাংশ চাষির। ফলে আমন নিয়ে দুঃচিন্তার ভাঁজ পড়েছে তিস্তাপাড়ের চাষিদের কপালে। 

হাতীবান্ধা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামীমা ইয়াসমিন জানায়, তৃতীয় দফার বন্যায় উপজেলার ১৫ হেক্টর জমির আমন ক্ষেত  নিমজ্জিত হয়েছে।এসব জমিতে কৃষকরা নতুন করে বলান লাগানো শুরু করেছে।আমরা কৃষি অধিদপ্তর থেকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রোণদনা হিসাবে মাষকলাই বীজ ও সার দিবো।যাতা আগাম ভুট্টা চাষ করতে পারে।

তবে কৃষি বিভাগের এ তথ্য মানতে নারাজ স্থানীয় চাষিরা। তাদের মতে, শুধু নদী পাড়ে বন্যায় ফসল খেত ডুবেনি। টানা ভারি বৃষ্টিতে সারা জেলার নিম্নাঞ্চলের খেত ডুবেছে। পানিতে তলিয়ে আছে ৪-৫ দিন ধরে। ফলে কৃষিতে ক্ষতির পরিমান অনেক বেশি বলে দাবি চাষিদের। 

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের কৃষক নুরুজ্জামান বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে চাষাবাদ করি। কিছুদিন আগে একবার বন্যায় ডুবে গিয়ে আমার ৩ বিঘা জমির আমন ধান নষ্ট হয়েছিল। চারা ক্রয় করে দ্বিতীয় দফায় রোপন করেছিলাম। সেটাও এক সপ্তাহের ব্যবধানের বন্যার পানিতে ডুবে নষ্ট হলো।এখন চারা কেনার টাকাও নেই। চারা রোপন না করলে পরিবার খাবে কি? আমরা কিভাবে বাঁচবো জানি না।

তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা সফুরা বেগম বলেন, “তিস্তা আমাদের সর্বনাশ করে দিয়েছে। বছরের পর বছর চাষাবাদে অনেক খরচ করেও আমরা লাভবান হতে পারি না। যা আবাদ করি, ঠিকমতো তার দাম পাই না। কিন্তু এবারের বন্যায় আমাদের সবকিছু শেষ করে দিলো। সামনে দিনগুলো কেমন যাবে, আমরা কিভাবে বাঁচবো, সেটা কেউই জানি না। ত্রাণসহ তিস্তার স্থায়ী বাঁধ চাই।

সোমবার তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে দিনভর বিপদসীমার ৪৪সেঃমিটার  নিচে প্রবাহিত হয়। ফলে হাতীবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তিস্তা নদীতে পানি কমে যাওয়ায় বেড়ে ভাঙন। তিস্তা নদীর বাম তীরে বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।হাতীবান্ধার সিন্দুর্না গড্ডিমারী, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে সিন্দুর্না সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্যা বসতভিটা ফসলি জমি আর স্থাপনা। 

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আরিফুর ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের তিস্তা চরের আমন খেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলে বেড়েছে ভাঙন। চর অঞ্চলের সিন্দুর্না সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, তিস্তা নদীর পানি কমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মুক্তি মিলেছে। পানি কমলে নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। সেদিক থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে নদীপাড়ে।