চট্টগ্রামের আলোচিত তিনটি হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক অপরাধের তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছেন মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারণায় সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যা এবং চন্দনপুরায় জোড়া খুনের পৃথক দুই মামলায় তাকে মোট সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন আদালত। পুলিশের তালিকাভুক্ত এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে। পুলিশ বলছে, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ইমনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) পৃথক দুই আদালত রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এর মধ্যে বাবলা হত্যা মামলায় পাঁচ দিন এবং চন্দনপুরায় জোড়া খুনের মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কারাগার থেকে ডেভিড ইমনকে আদালতে হাজির করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী কালবেলাকে রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বাকলিয়া থানার হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত পাঁচ দিনের এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার হত্যা মামলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী খোন্দকিয়া পাড়ায় বিএনপির চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারণায় এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন সরোয়ার হোসেন বাবলা। ঘটনার দুই দিন পর তার বাবা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় রায়হান ও ইমনসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ১৬ জনকে আসামি করা হয়।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ ভোররাতে নগরের চকবাজারের চন্দনপুরা এলাকায় একটি প্রাইভেটকার ধাওয়া করে থামানোর পর গুলি চালানো হয়। এতে সরোয়ার বাবলার অনুসারী বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লাহ নিহত হন। আহত হন আরও দুজন। এ ঘটনায় ১ এপ্রিল নিহত মানিকের মা ফিরোজা বেগম বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না, মো. হাসান, মোবারক হোসেন ইমন, রায়হান ও বোরহানসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রামের অপরাধজগতে তার নাম আলোচনায় আসে। একসময় রাউজানের বালুমহালে টাকা তোলার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে বড় সাজ্জাদের সহযোগী রায়হানের মাধ্যমে ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে তার।
চট্টগ্রাম নগর ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য, বড় সাজ্জাদের সঙ্গে একসময় ঘনিষ্ঠতা ছিল ম্যাক্সন ও সরোয়ার হোসেন বাবলার। পরে তাদের সঙ্গে সাজ্জাদের দূরত্ব তৈরি হলে ছোট সাজ্জাদ, রায়হান ও বোরহান তার ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তাদের মাধ্যমেই ইমন ওই গোষ্ঠীতে যুক্ত হন। গুলি চালানোর দক্ষতা ও সাহসের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। পরে রায়হানের সহযোগী হিসেবে গোষ্ঠীর একটি অংশ পরিচালনা করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত কয়েক মাসে ব্যবসায়ী ও ভবন নির্মাতাদের ফোন করে চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠেছে ইমনের বিরুদ্ধে। গত ১৩ জুলাই বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে ফোন করে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাঁদা না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাবেক সংসদ সদস্য ও স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবর রহমান চৌধুরীর বাসায় গুলির ঘটনায়ও ইমনের নাম আসে। চন্দনপুরায় জোড়া খুন, গত বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সৈকতে ঢাকাইয়া আকবর হত্যা এবং ৫ নভেম্বর সরোয়ার বাবলা হত্যাকাণ্ডেও তার নাম আলোচনায় আসে।
গত ২৯ জুলাই ভোরে নড়াইল-যশোর সড়কের ঝুমঝুম এলাকায় একটি গাড়ি থেকে তিন সহযোগীসহ ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। পরদিন তাকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২ আগস্ট ফটিকছড়ি থানার একটি হত্যা মামলায় পাঁচ দিন ও একটি অস্ত্র মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ১২ আগস্ট হাটহাজারী থানার একটি চাঁদাবাজির মামলায়ও তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এবার দুটি হত্যা মামলায় আরও সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় চট্টগ্রামের আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোতে ইমনের ভূমিকা ও অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পুলিশ।
রংপুরে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সম্মেলন
৫ ঘন্টা আগে
রংপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু
৭ ঘন্টা আগে
আদিতমারীতে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত
১১ ঘন্টা আগে