দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে মনের জ্বালা মেটাতে না পেরে বিরোধীরা আবোল-তাবোল কথা বলছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার পতনের কথা বলা তাদের স্বৈরাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এক দফার নামে তারা পলাতক স্বৈরাচারকে দেশে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করছে।
শুক্রবার বিকেলে লালমনিরহাট শহরের ক্যান্টিন মোড় এলাকায় জেলা পরিষদের অর্থায়নে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুট্টা চত্বর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে, কারও দয়ায় নয়। তাই এক দফা কিংবা দশ দফা দিয়ে কোনো লাভ হবে না। যা বলার সংসদে বলতে হবে। বর্তমান সরকার সংসদে কথা বলার সুযোগ উন্মুক্ত করেছে। রাজপথে না বলে সংসদে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের ছয় মাস না যেতেই সরকার পতনের কথা বলা একটি স্বৈরাচারী মানসিকতার পরিচয়। জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করেছে। নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হলে বিএনপি বসে থাকবে না; জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এর জবাব দেওয়া হবে।
কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। দেশের কৃষিপণ্যকে কেন্দ্র করে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, লালমনিরহাটের ভুট্টাকে ঘিরে প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ভুট্টার ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ইতোমধ্যে লালমনিরহাটে ভুট্টাভিত্তিক কলকারখানা স্থাপনে অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সার নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার সময়মতো কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দিয়েছে। ফলে এবার ভুট্টাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ভালো ফলন হবে। বিরোধীরা যেসব ইস্যু নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করেছে, জনগণ সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেনসহ সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।