শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

দুবাইয়ে ৭৩ বাংলাদেশির সম্পদের তথ্য চায় দুদক


প্রকাশ : (২ ঘন্টা আগে)
দুবাইয়ে ৭৩ বাংলাদেশির সম্পদের তথ্য চায় দুদক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল ও সাবেক পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত রয়েছেন।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুবাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানি, সম্পত্তি কেনাবেচা ও অর্থের উৎস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে দুদক। এ জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের (ইউএনসিএসি) আওতায় মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আন্তর্জাতিক এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে তদন্তের প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সংগ্রহ করা হয়।

তদন্তে দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে কয়েকজন বাংলাদেশির ফ্ল্যাট ও বাড়ি থাকার তথ্য পেয়েছে দুদক। তাদের কেউ কেউ সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাও নিয়েছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আখতারুল ইসলাম জানান, দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়ে তদন্তকারী দল বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি দিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ৭৩ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এবং সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের সদস্য হিসেবে একটি বিশেষ দল অনুসন্ধানটি পরিচালনা করছে। তদন্ত চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয় প্রকাশ করেনি দুদক।

৪৫৯ বাংলাদেশির সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধানের সূত্রপাত

দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদ নিয়ে দুদকের বর্তমান অনুসন্ধানের সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনায়। ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালত দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।

সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ (সিফোরএডিএস) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির মালিকানায় ৯৭২টি সম্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়। এসব সম্পত্তির নথিভুক্ত মূল্য প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সিফোরএডিএসের এক গবেষণায় বলা হয়, এসব সম্পত্তির মধ্যে ৬৪টি দুবাই মেরিনা এবং ১৯টি পাম জুমেইরাহ এলাকায় রয়েছে। বাংলাদেশিদের মালিকানায় অন্তত ১০০টি ভিলা ও পাঁচটি ভবনের তথ্যও পাওয়া গেছে।

গবেষণায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পত্তির যোগসূত্র থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল। এসব সম্পদের অর্থের উৎস ও মালিকানা যাচাই করতেই দুদকের অনুসন্ধান চলছে।

বিজ্ঞাপন