বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

পোল্ট্রি মুরগির মাংসে মিলল নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল


প্রকাশ : (৫ ঘন্টা আগে)
পোল্ট্রি মুরগির মাংসে মিলল নিরাপদ  সীমার  চেয়ে বেশি  অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল

বাংলাদেশের পোল্ট্রি মুরগির মাংসের কিছু নমুনায় আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল (অ্যান্টিবায়োটিক) অবশিষ্টাংশ (রেসিডিউ) পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামে পরিচালিত এক যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, মাংসে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে এবং ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর (অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স) ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

যুক্তরাজ্যের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Poultry News। গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানও অংশ নেয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বর্তমানে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাণীর রোগ চিকিৎসা ও দ্রুত উৎপাদনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলেও নির্ধারিত 'উইথড্রয়াল পিরিয়ড' বা অপেক্ষার সময় না মেনে প্রাণী জবাই করলে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে। এসব অবশিষ্টাংশ দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণার নেতৃত্ব দেন রয়েল ভেটেরিনারি কলেজের ভেটেরিনারি ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি ও অ্যানেস্থেসিয়ার অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ড।

গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২১ ও ২০২২ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে মোট ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে এসব নমুনা পরীক্ষা করে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড অনুযায়ী বিশ্লেষণ করা হয়।

সংগৃহীত নমুনার একটি অংশ খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এবং বাকি অংশ বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত পোল্ট্রি খামার থেকে সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত নমুনার ৩ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে আন্তর্জাতিক নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এ হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।

গবেষকদের ধারণা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর কিছু ক্ষেত্রে জবাইয়ের ঠিক আগে প্রাণীর শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হতে পারে। নির্ধারিত অপেক্ষার সময় অনুসরণ না করায় মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

গবেষণার প্রধান অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ড বলেন, এশিয়ায় একই মানদণ্ডে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা। এর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং ভেটেরিনারি খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

‘ওয়ান হেলথ পোল্ট্রি হাব’-এর আওতায় পরিচালিত এ গবেষণায় অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের (ইউকেআরআই) গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড।

বিজ্ঞাপন