সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

রংপুরে এসআই নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী ও দালাল চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার


প্রকাশ : (৫ ঘন্টা আগে)
রংপুরে এসআই নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী ও দালাল চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে ২০২৬ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগে দালালচক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে । এ সময় পুলিশ জাল প্রবেশপত্র, অর্থ লেনদেনের তথ্য, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। শনিবার (১ আগস্ট) রাতে রংপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তত্বাবধানে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে ডিবির একটি বিশেষ দল নজরদারি চালায়। পরীক্ষা কেন্দ্র রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ফেস ডিটেকশন পয়েন্টে প্রবেশের সময় আশরাফুল ইসলাম (২১) নামে এক পরীক্ষার্থীকে সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।এক পর্যয়ে একাডেমিক ভবনে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আশরাফুল স্বীকার করে তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি জাল। একই সময়ে তার হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিতে আসা তাজমিলুর রহমান (১৯)-কেও আটক করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল জানায়, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কামালকাছনা কার্যালয়ের কর্মরত বাদশা মাসউদ আলম (৪৮) ও নুরুল ইসলামের (৪৬) মাধ্যমে তার বাবার সঙ্গে ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি দিনাজপুর শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে আড়াই লাখ টাকা জমা দেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপে তার কাছে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠানো হয়। নিয়োগের নিয়ম অনুযায়ী আশরাফুল কোনো শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেননি। এরপরও জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করে। আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন এবং জাল প্রবেশপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা মাসউদ আলম জানান, নুরুল ইসলামসহ আরও ২ থেকে ৩ জন এ চক্রের সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুলিশের ক্যাডেট এএসআই পদে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছে। জাল প্রবেশপত্র তৈরির পাশাপাশি তারা বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন দিয়ে বিভ্রান্ত করারও চেষ্টা করত।আরপিএমপির কোতোয়ালি থানার সহযোগিতায় ঢাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

রংপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন