শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে অঙ্গীকার করেছে সরকার, তার দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণ দেখতে চায়- জামায়াত আমির


প্রকাশ :

শুক্রবার (১০ জুলাই) বন্যা পরিস্থিতি দেখতে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে যেয়ে চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে সাংবাদকিদের সাথে কথা বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে অঙ্গীকার করেছে সরকার, তার দৃশ্যমান অগ্রগতি ‘জনগণ দেখতে চায়’।

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেন, ‘দেশের চারটা বিভাগে মূলত এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগে। আর বাকি বিভাগগুলো অতটা ভালনারেবল না। কিন্তু এই চারটা বিভাগের অবস্থা ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে রংপুর বিভাগ বেশি হুমকিতে পড়বে যদি তিস্তার ওইদিক থেকে বাঁধ সব খুলে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘তাহলে যেটা প্রত্যেক বৎসরই হয়, এটা দুঃখ হয়ে আছে। সেই ঝামেলাটা দেখা দেবে। এজন্য আপনারা জানেন যে, ইতোমধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এবং সরকারের পক্ষ থেকেও ব্যাপারে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

জামায়াত আমীর বলেন, ‘আমরা এখন সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি। আমরা জানি প্রজেক্টটা অনেক বড়। সময় লাগবে। কিন্তু আন্তরিকভাবে কাজটা শুরু হোক, দৃশ্যমানভাবে, জনগণ এটা দেখতে চায়।

চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা কষ্টে আছে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং সরেজমিনে দেখে গিয়ে আমাদের করণীয়, সরকারে করণীয় সম্পর্কে আমাদের পক্ষ থেকে দাবি উত্থাপনের জন্য মূলত আমরা এখানে এসেছি। আমি সর্বপ্রথম সেই সমস্ত মানুষদের প্রতি সহানুভূতি জ্ঞাপন করছি এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি, সম্প্রতি বন্যায় যারা নিহত হয়েছেন, পাহাড় ধসের কারণে বা বিভিন্ন কারণে। বিশেষভাবে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন, চট্টগ্রাম মহানগরী হচ্ছে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। কিন্তু একটু বর্ষা নেমে এলেই পুরা চট্টগ্রাম মহানগরীতে দুর্ভোগ দেখা দেয়। নালা নর্দমা উপচে পড়ে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার কারণে দুয়েকটা মৃত্যুর ঘটনাও গতবার ঘটেছে।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব মূলত এগুলো সমাধান করা। কিন্তু বিরোধী দল হিসেবেও আমাদের দায়িত্ব আছে বিষয়গুলো সরকারকে ধরে দেওয়া। এবং জনগণের হয়ে দাবি আদায় করা, কাজ করা। আমাদের আজকের আসাটাও অনেকটা সেরকমের। আমরা ইনশাল্লাহ এখান থেকে বাঁশখালী যাচ্ছি। বাঁশখালী থেকে ফেরার পথে আমরা লোহাগাড়া এবং সাতকানিয়া যেতে চেষ্টা করব। এরপরে শহরেরও কিছু জায়গায় আমরা যাব, দেখব। আপনাদের অবস্থা দেখে আপনাদের পক্ষ থেকে, আপনাদের হয়ে আমরা যাতে কাজ করতে পারি সেই চেষ্টা করব।

তিনি আরও বলেন, ‘তাছাড়াও আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের সীমিত সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা এই বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াব। বিশেষ করে নিহত পরিবারগুলোর পাশে কিভাবে দাঁড়াতে পারি সেটা আমরা চিন্তা করছি। এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়ও যতটুকু পারি আমাদের পক্ষ থেকে দলীয় অবস্থান থেকে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে আমাদের সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনকে আমরা নির্দেশ দিয়েছি। এবং কেন্দ্র থেকে আমরা এটা সমন্বয় করছি।

পরে তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরিতে এবং সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের বকশিরখিলসহ বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ অর্থ সহায়তা দেন।