বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে তিস্তা পাড়ে আলোর মিছিল


প্রকাশ :

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং প্রকল্পটির দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে তিস্তার দুই তীরের পাঁচ জেলার আটটি স্থানে গণসমাবেশ ও সন্ধ্যায় "আলোর মিছিল" কর্মসূচি পালন করেছে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ।

বুধবার বিকেলে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের তিস্তা তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে একযোগে স্বাগত জানাই এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

তিনি বলেন, “তিস্তা পাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনেছে। এখন তারা নতুন আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়। তাই তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ আলোর মিছিলে অংশ নিয়ে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদন এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মতো একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা উএসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোর মিছিল বের করা হয়।

সংগঠনটি জানায়, পুরো জুন মাসজুড়ে "পদ্মা হলে তিস্তা নয় কেন?" স্লোগানে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, হাটসভা, উঠান বৈঠক, বিক্ষোভ ও মশাল প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাবাজারের আলীবাবা থিম পার্কসংলগ্ন তিস্তা পাড়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, “চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন—‘২০২৬-২০২৭ অর্থবছরেই এই সরকার যে কোন মূল্যে  তিস্তা   মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।’ আমরা এই ঘোষণাকে আন্তরিকভাবে

ত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি নদীভাঙন রোধ, তিস্তার উভয় তীর সংরক্ষণ, নদী খনন, শাখা-উপনদী পুনরুজ্জীবন, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, কৃষি উৎপাদন ও সেচ সম্প্রসারণ, নৌযোগাযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিল্পায়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করার একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ। জাতীয় সংসদে দেওয়া ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়নই হবে তিস্তা পাড়ের মানুষের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।”

সমাবেশ শেষে নজরুল ইসলাম হক্কানী আলোর মিছিলের উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর কবির, বাবুল আক্তার, আশিকুর রহমান,ববিউল ইসলাল,

স্থানীয় সংগঠক আব্দুস ছাত্তার,জিয়াউর কামরুজ্জামান ও রফিকুল ইসলাম।সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখে ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৈলমারী ও বানপাড়া তিস্তা পাড়ের কর্মসূচিতে উপস্থিত  ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছাদেকুল ইসলাম, শৈলমারী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান জামান এবং কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম পাশা এলিচ ও জাহাঙ্গীর রহমান।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট তিস্তা তীরে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বখতিয়ার হোসেন শিশির, কেন্দ্রীয় নেতা সাজু সরকার, মোশাররফ হোসেন, মওলানা জাহিদুল ইসলাম। 

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আউলিয়ার বাজার পয়েন্টে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুন নুর দুলাল ও মাহমুদ আলম এবং কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফুল ইসলাম, পারভিন আক্তার, ওমর ফারুক ও মোনায়েম সরকার। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হোকোডাঙা তিস্তা পাড়ে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মশিউর রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতা মোশাররফ হোসেন। সুন্দরগঞ্জের তারাপুর তিস্তা পাড়ে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা মুন্সি সাজু ও মমতাজুর রহমান বাবু।

জলঢাকার শৈলমারীর সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, “জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিস্তা অববাহিকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে দ্রুত একনেক অনুমোদন, অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা সময়ের দাবি।” এখানে হাজারো মানুষের উপস্থিতে মশাল জ্বালিয়ে আলোর মিছিল উদ্বোধন করেন সংগঠনের প্রবীণ নেতা,স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছাদেকুল ইসলাম।

সমাবেশ থেকে আগামী দিনে রংপুর অঞ্চলের  রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

দাবিগুলো হলো—(১) তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা; (২) অভিজ্ঞ নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও তিস্তা আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে "তিস্তা কর্তৃপক্ষ" গঠন; (৩) দক্ষ প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ; (৪) সরকারি ব্যবস্থাপনায় "তিস্তা বন্ড" চালু এবং বালু-পাথর বিক্রির আয় প্রকল্পে বিনিয়োগ; (৫) ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ; এবং (৬) প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল, কৃষি অঞ্চল, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কৃষিভিত্তিক সমবায় ও কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা।