সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

তিস্তার পানি বাড়ছে, লালমনিরহাটে বন্যার আশঙ্কা


প্রকাশ :

উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট জেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি বৃদ্ধির কারণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২১ জুন) দুপুর ১২টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ০০ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

তিস্তা নদী লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সামান্য পানি বৃদ্ধিতেই বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নিম্নভূমি প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে বন্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলে আবাদ করা চিনাবাদাম, ভুট্টা, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার পানি ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ তিস্তা নদীতে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, “তিস্তার পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন।