বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)'র সভাপতি এম এ আলীম সরকার গত ৭মে এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান চিকিৎসাব্যবস্থা গভীর সংকটের মুখোমুখি। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, গত ১৮ মাসে স্বাস্থ্যখাতে নীতিনির্ধারণ, ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনুস-এর নেতৃত্বাধীন শাসনামলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়হীনতা, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ড. ইউনুস স্বাস্থ্যসেবাকে একেবারেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছে। শুধু স্বাস্থ্যসেবাই নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি যন্ত্রই অকেজো করে ফেলেছে। ড. ইউনুস শুধু নিজের আখের গুছিয়েছে। সর্বজনীন কল্যাণে কোনো প্রকার কাজ করেনি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট, জরুরি সরঞ্জামের অভাব এবং চিকিৎসকদের ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসাও পাচ্ছেন না।
শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা, পুষ্টি সহায়তা ও জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। গ্রামাঞ্চলে শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা গভীর উদ্বেগজনক। উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে গত ছয়মাসে কোনো ওষধ সরবরাহ করা হয়নি। এমনকি জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষধও পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা সামাজিক বৈষম্যকে আরও তীব্র করছে। এদিকে হামের টিকার অভাবে যেভাবে প্রতিদিন অকালে শিশু মারা যাচ্ছে, তা করোনার মহামারির সময়েও এতো লোক মারা যায়নি। এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৩২৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর প্রধান কারণ ইউনুসের সময় কোনো প্রকার টিকা আমদানি করেনি ও টিকা প্রদান করা হয়নি। এই শিশু মৃত্যুের জন্য মূলত ইউনুস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাই দায়ী। এই শিশু মৃত্যুের জন্য ড ইউনুস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিচার হওয়া উচিত।
এম এ আলীম সরকার আরও বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বাজারে নকল ও নিম্নমানের ওষুধের বিস্তারও বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে না। দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
বর্তমান সরকারকে অবিলম্বে স্বাস্থ্যখাতকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালসমূহে জরুরি ভিত্তিতে জনবল ও সরঞ্জাম বৃদ্ধি করতে হবে। ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে। গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে।
বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি মনে করে, জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা জাতীয় সংকটে পরিণত হবে। আমরা অবিলম্বে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।