বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর অমুক্তিযোদ্ধাদেরকে সেচ্ছায় রিজাইন করার আহবান


প্রকাশ :

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ্যাড. আহমেদ আযম খান অমুক্তিযোদ্ধাদেরকে তালিকা থেকে স্বেচ্ছায় রিজাইন করার আহবান জানিয়ে বলেন, স্বেচ্ছায় রিজাইন দেয়া অমুক্তিযোদ্ধাদেরকে লঘুদন্ড দেয়া হবে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় কর্তৃক তদন্ত সাপেক্ষে অমুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত হলে তাকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। তিনি গত ০৭ মে দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা ভবনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাউন্সিলের সভায় এ কথা বলেন।  

তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে অমুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদেরকে সরকারের বড় বড় পদে চাকুরীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যা’ অনৈতিক ও বে আইনী। তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, অভিযোগ করা হয় যে, বিএনপি সরকারে সময় ৪০ হাজার অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছে। এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, বিগত পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ‍দূনীতি, দূর্বৃত্তায়ন ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংশ করেছে। তাদের ১৬ বছরের শাসন আমলে ৫০ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, মুক্তিযোদ্ধার বাংলাদেশ। স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনই এদেশে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তারা যুদ্ধাপরাধী। বিগত ০৫ আগস্ট ২০২৫ এরপর স্বাধীনতা বিরোধীরা দেশের অধিকাংশ জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ভবন কমপ্লেক্স আক্রমন, হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। সরকার এই সকল ক্ষতিগ্রস্ত ভবনসমূহের মেরামতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। 

তিনি বলেন, চলতি মে মাসে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হবে। সেই গঠনতন্ত্রের আলোকে আগামী জুন মাসে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।        

মন্ত্রীর বক্তবের পূর্বে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ-এর কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষথেকে বলা হয় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ-এর গঠনতন্ত্রের কার্যকরিতা নেই। গঠনতন্ত্র মোতাবেক সংসদ কমান্ডগুলো পরিচালিত হয়নি। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী সুবিধাভোগী শ্রেণীকে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দিয়ে, ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সৃষ্টি করে এই গৌরবজনক প্রতিষ্ঠান মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে কলুষিত করেছে। 

২০২৬ সালের জামুকার আইনে সেই বাস্তবতার আলোকে মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর দেয়া সংজ্ঞা প্রবর্তন করা হয়। জামুকার আইন মোতাবেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা গঠিত কমান্ড স্তরভিত্তিক করার জন্য ফ্যাসিস্ট আমলের গঠনতন্ত্র (২৭ অক্টোবর ২০১০ইং তারিখে প্রণীত) সংশোধন ও পরিবর্তন করে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। গত ০৫/০১/২০২৬ইং তারিখে জাতীয় নির্বাহী কাউন্সিলের সভায় গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতা বলে সেই গঠনতন্ত্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, নতুন পূনর্গঠন করা, গঠনতন্ত্রটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ ও প্রতিনিধিত্বমূলক করার জন্য বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের ০৪ (চার) জন্য বিশিষ্ট এ্যাডভোকেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তা জামুকা এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা দাবী করছি, খুব দ্রুততম সময়ে আমাদের গঠনতন্ত্র অনুমোদনের জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা নিবেন। 

গঠনতন্ত্র অনুমোদন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য নতুন গঠনতন্ত্র মোতাবেক ০৩ (তিন) সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন করে দিতে হবে। এই নির্বাচন কমিশন গঠন করার গঠনতান্ত্রিক দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, যিনি গঠনতান্ত্রিক ভাবে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রধান উপদেষ্টা। আমরা দাবী করছি, মন্ত্রী দ্রুত কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন, যার মাধ্যমে সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধার সংসদ কমান্ডগুলোতে নির্বাচনী মহা উৎসব শুরু করবেন। 

এদেশের মুক্তিযোদ্ধারাই স্বাধীনতার স্থাপতি এবং জনগণের জন্য জীবনতাগী প্রজন্ম। আমরা মন্ত্রীর কাছে দাবী করছি, আমাদের জীবনে শেষ প্রান্তে এসে যেন জীবিত মুক্তিযোদ্ধারা এক সঙ্গে এক সংসদের পতাকাতলে একত্রিতভাবে অতীত স্মৃতি চারণ করতে পারি এবং নতুন প্রজন্মকে সেই মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগ ও গৌরবের কথা বলে যেতে পারি, সেই ব্যবস্থা করে দিবেন। দীর্ঘ নয় বছর পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কমান্ড কাউন্সিল রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে গঠিত হওয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা আজ মুক্তিযোদ্ধাদের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারে আত্মপ্রত্যায়ী।  

কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাউন্সিলের সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর। বক্তব্য রাখেন, নারায়নগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, ঢাকা মহানগর ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল বাশার, বরিশাল মহানগর ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, মানিকগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, যশোর জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, দিনাজপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকসেদ আলী  মঙ্গোরীয়া, খুলনা জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, লালমনিরহাট জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম শফিকুল ইসলাম কানু, রংপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয়  আহবায়ক কমিটির সদস্য-সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান।  

সভায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, ৬৪টি জেলা কমিটির আহবায়ক ও ০৮টি মহানগর কমিটির আহবায়ক অংশগ্রহণ করেন।