রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

প্রধান উপদেষ্টার সাথে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ


প্রকাশ :

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন।হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক প্রধান উপদেষ্টাকে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের কার্যক্রম এবং ঢাকায় সফরকালে সরকারের উপদেষ্টা, সেনাপ্রধান, সংস্কার কমিশনের প্রধান, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এবং কর্মকর্তাদের সাথে তাঁর বৈঠকের বিষয়গুলো অবহিত করেন।

তিনি জানান, গত জুলাই-আগস্ট মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনা তদন্তে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফলকার তুর্ক বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাজ, যা বিপ্লবের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে, এবং দেশের সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন। স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে ঘটে যাওয়া বলপূর্বক গুমের ঘটনা নিয়েও তিনি তদন্ত কমিশনের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তদন্তে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকরী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য তিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর ঢাকায় তাদের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে চায়।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারকে বাংলাদেশ সফর এবং বিপ্লবের সময় সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ আপনার সফরে খুশি এবং কৃতজ্ঞ।"

তিনি আরও বলেন, তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং উন্নয়ন ও মানবাধিকারকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। তিনি নিশ্চিত করেন, তাঁর সরকার পূর্ববর্তী সরকারের ভুল ও অপরাধের পুনরাবৃত্তি করবে না।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়, বিশেষ করে মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের সহায়তার জন্য আরও আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার ওপর ফলকার তুর্ক গুরুত্ব দেন। প্রধান উপদেষ্টা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরির জন্য জাতিসংঘের সহায়তা চান, যাতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা তাদের নিজ অঞ্চলের কাছাকাছি থাকতে পারে।

তারা আঞ্চলিক সংকটের দ্রুততম টেকসই সমাধানের জন্য কিছু সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার এবং আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।