রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

আমার পুষ্পস্তবক কই? আমি তো প্রশাসনিক কোন লোক না- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী দুলু


প্রকাশ :

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নবনির্বাচিত এমপি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর জন্য আলাদা কোন পুস্পস্তবকের ব্যবস্থা রাখেনি লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন। ২১শের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহিদ বেদীতে এসে নিজ নামে পুষ্পস্তবক না পেয়ে বিব্রত অবস্থায় পড়েন মন্ত্রী। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) নিন্দার ঝড় উঠেছে। 

একুশের প্রথম প্রহরে পুষ্প স্তবক অর্পনের প্রাক্কালে  মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জেলা প্রশাসককে বলেন ” আমার পুষ্পস্তবক কই?  আমি তো প্রশাসনিক কোন লোক না।” মন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুষ্প স্তবক না থাকায় তিনি বিষয়টি নিয়ে বিব্রত প্রকাশ করেন।

সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী মন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের সকল আয়োজন প্রশাসনের করার কথা থাকলেও, এই উদাসীনতা শহীদ মিনারে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীর মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দারের দায়িত্বহীনতা ও মন্ত্রীর ‘প্রটোকল লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে পোষ্ট করেছেন। এতে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জেলা প্রশাসক।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাজুল চৌধুরী জানান, সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী মন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের সকল আয়োজন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করার কথা থাকলেও তারা উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে শুধু মন্ত্রী নন আমাদেরকেও বিব্রত অবস্থায় ফেলেছেন।

সাংস্কৃতিক সংগঠক শামীম আহমেদ জানান, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের এমন সমন্বয়হীনতা সাধারণত ‘প্রটোকল লঙ্ঘন’ হিসেবে বিবেচিত। 

লালমনিরহাট জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান ভিপি আনিছ জানান, সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী মন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করবেন জেলা প্রশাসন। কিন্তু তারা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে শহীদ মিনারে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীর মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। এটা কেন হলো তা ক্ষতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে একুশের প্রভাত ফেরি (সূর্য উদয়) থেকে লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাজের সর্বস্তরের মানুষজনের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় মাইকে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একশে ফেব্রুয়ারি' গানটি বাজানো হয়নি। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মাইক বন্ধ ছিলো। এসময় শহিদ বেদীতে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষজন পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এ ঘটনা লালমনিরহাট সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এবং  টিআইবি সদস্যবৃন্দ শহিদ মিনারে গিয়ে শহিদ দিবসের ওই গানটি সমবেত কন্ঠে গেয়ে প্রতিবাদ জানায়। এই ঘটনাটিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মূখে পড়েন জেলা প্রশাসন। পরে তড়িঘড়ি করে জেলা তথ্য অফিসের মাইক নিয়ে সকাল ১০টার দিকে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একশে ফেব্রুয়ারি' গানটি বাজানো শুরু করা হয়।

নাট্য সংগঠক সুপেন দত্ত ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তি সূফী মোহাম্মদ  জানান, আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি।  সমাজের সর্বস্তরের মানুষ শহিদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। এসময় 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একশে ফেব্রুয়ারি' গানটি মাইকে না  বাজানো একুশের চেতনার পরিপন্থী। আমার এর তীব্র নিন্দা জানাই।

এসব ব্যাপারে জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দারের মুঠোফোনে একাধিকবার করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরছেন নি।