১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটে সাত কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ভোটারের মধ্যে ৬২ শতাংশের বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) কার্যকর হওয়ার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে। এই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সংবিধানে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হবে, কিন্তু বিএনপি ও কিছু অন্যান্য দলের নোট অব ডিসেন্ট থাকায় সব প্রস্তাব কার্যকর হবে না।
জুলাই সনদ অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব শুরু হবে নবনির্বাচিত সংসদ শপথ গ্রহণের পর, এবং প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের কাজ শেষ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা সীমিত হবে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাবে, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান একই পদে থাকতে পারবে না, এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগ, বিরোধী দল ও ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে না। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান একই পদে না থাকার বিধান, যা বিএনপির ইশতেহারে উল্লেখ থাকায় তারা তা বাস্তবায়নে বাধ্য নয়। এছাড়া উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। গণভোটে ভোটাররা আনুপাতিক ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, কিন্তু বিএনপি তাদের ইশতেহারে আসন সংখ্যার ভিত্তিতে গঠনের দাবি করেছে। সংবিধান বিশ্লেষকরা বলছেন, সরাসরি ভোটে নির্ধারিত আনুপাতিক ব্যবস্থা প্রাধান্য পাবে, দলের ইশতেহারের দাবি পরোক্ষভাবে বিবেচিত হবে।
গণভোটের ফলাফলের মাধ্যমে দেশের সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য ও স্বাধীনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটাধিকার এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সমন্বয়—এসব সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি হবে। তবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং বিভিন্ন দলের আপত্তির কারণে কিছু বিষয় স্থগিত থাকবে।
সংক্ষেপে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ খোলা হলেও কিছু প্রস্তাব ব্যতীত বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংস্কার কার্যকর হবে, আর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উচ্চকক্ষ গঠন ও সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে আগামিকালে আরও আলোচনা ও বিতর্ক চলবে। (সূত্র: বিবিসি বাংলা)