কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে আগুন ধরে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় বাসটির সঙ্গে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পরপরই বাসটি উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায়।
বাসের যাত্রী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মামদ নেয়ামত উল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে দাউদকান্দির আমিরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে এক যাত্রী বাসে ওঠেন। তিনি কুমিল্লায় নামতে চাইলে চালক সেখানে বাস থামাতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে চালক ও তাঁর সহকারীর সঙ্গে ওই যাত্রীর তর্কাতর্কি হয়। এতে চালক অমনোযোগী হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নেয়ামত উল্লাহ আরও বলেন, বানিয়াপাড়া এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশাকে অতিক্রম করার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এরপরই বাসে আগুন ধরে যায়। বাসের আরও তিন যাত্রীর কাছ থেকেও একই ধরনের বর্ণনা পাওয়া গেছে।
দুর্ঘটনায় আহতদের প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নেয়ামত উল্লাহ নিজে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন, তবে দুর্ঘটনার কারণে পরীক্ষায় বসতে পারেননি। তাঁর বাড়ি চান্দিনা উপজেলার আড়ুয়াড়া গ্রামে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর দুপুর দুইটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, এখনো নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। মরদেহগুলো হাইওয়ে থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে। স্বজনেরা থানায় যোগাযোগ করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।