১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার। দলীয়করণ, আত্মীয়করণ ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে স্বঘোষিত ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার।
১৯৭১ সালে ২৩ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে কেবিনেট মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন এ্যাকটিং প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম। উক্ত কেবিনেট মিটিংয়ে ৮০ হাজার গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার জন্য প্রতিমাসে ৬৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় অনুমোদন দেওয়া হয়। তন্মধ্যে প্রতিমাসে বেতন ৫০ টাকা হারে বেতন ৪০ লাখ, খাওয়া বাবদ ৩০ টাকা হারে ২৪ লাখ, কন্টিনজেন্সি বাবদ ৫ হাজার করে ৫৩টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৬৫ হাজার।
উক্ত কেবিনেট মিটিং-এর সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে যে অনেক গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা পূর্ববর্তী পেশায় ও তাদের পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এককালীন বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। মন্ত্রিসভা আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে জাতীয় মিলিশিয়া গঠনের সিদ্ধান্তটি একটি ঘোষণা আকারে হওয়া উচিত। সেখানে মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের (গণবাহিনীসহ) জাতীয় পুনর্গঠন, জাতীয় প্রতিরক্ষা, গণ পুলিশ বাহিনী, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যবহারের বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর কেবিনেটে সচিব কর্তৃক একটি সভার খসড়া ঘোষণা জমা দেওয়া হবে এবং প্রকাশ করা হবে। আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে বিভিন্ন সংস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুসারে গণবাহিনীর সদস্যদের জাতীয় মিলিশিয়ায় এবং পুনর্গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সেল তৈরি করা হবে। উক্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়ন না করে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে অস্ত্র জমা নিয়ে তাদেরকে মাত্র ৩০/৫০ টাকা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। পৃথিবীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এরূপ কোনো নজিরই নেই।
পরবর্তীতে সারা দেশে শুরু হলো লুটপাট। গড়ে উঠলো সিক্সটিন ডিভিশন ও দলীয় কথিত মুক্তিযোদ্ধাদের অপতৎপরতা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ তার ডায়েরিতে লিখেছেন বঙ্গবন্ধুর কাছে ১ লাখ ৫ হাজার অস্ত্র জমা দিয়েছেন। অনেক মুক্তিযোদ্ধার কাছে একাধিক অস্ত্র ছিল। তাছাড়াও ছিল পরাজিত হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী, ইপিক্যাপ এর নিকট থেকে প্রাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ।
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ১৯৭২ সালের ৭ আগস্ট প্রেসিডেন্ট অর্ডারে বলা হয়েছে, অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধা’র সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা মানে এমন কোনো ব্যক্তি যিনি কোনো সংগঠিত ফোর্সের সক্রিয় সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।
তিনি কোনো প্রতিরক্ষা সার্ভিস কিংবা পুলিশ সার্ভিস কিংবা বেসামরিক আর্মড ফোর্সের সদস্য হবেন না। ১৯৭২ সালের ৭ আগস্ট প্রেসিডেন্ট অর্ডারে বেসামরিক সাধারণ মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় কোনো দলীয় পরিচয় ছিল না। মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় কেবল মুক্তিযোদ্ধা।
শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনের আমলে এবং অধ্যাবধি কোনো সরকার ১৯৭২-এর উপরিউক্ত মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা বাতিল করেননি। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন।
বাঙালি জাতির ত্যাগকে স্মরণ করতে এবং শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণার্থে ২০০২ সালে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল গঠিত হয়।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশের আলোকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ও বয়স নির্ধারণ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহবুবুর রহমান ফারুকীর স্বাক্ষরে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যে সকল ব্যক্তি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন। এখানে রণাঙ্গনের সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধার বিষয়ে সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই ফলে আওতা সম্প্রসারিত হওয়া এবং বয়স পুনর্নির্ধারণ করায় ভুয়া অর্থাৎ অমুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কৃষক শ্রমিক যুবক ছাত্র ৫০ হাজার, নৌ কমান্ডোর ৩ শত সদস্য, বিএলএফ ৫ হাজার সদস্য, মোট ৮০ হাজার ১ শত জন। সূত্র মুক্তিযুদ্ধের পর সেক্টর ও সাবসেক্টর কমান্ডারদের প্রকাশনা (৬ নভেম্বর ‘২০) (দৈনিক ইত্তেফাক)। মুক্তিযুদ্ধকালীন সেক্টর বিলুপ্তির পর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রশিক্ষণ ও রেকর্ড সংরক্ষণ প্রতিষ্ঠান ইপিআরসিতে হস্তান্তর করা দলিলপত্র দেয়া যায়। মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৭০ হাজার ৮৯৬ জন। তথ্যসূত্র: (দৈনিক ইত্তেফাক ৬ জানুয়ারি ‘২০)। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক প্রদত্ত তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬৯ হাজার ৫০৯ জন।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই নিয়ে নির্দেশিকা-২০১৬ জারি করা হয়। যাচাই-বাছাই করণে বলা হয়েছে—
যেহেতু মুক্তিযোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও লাল মুক্তিবার্তায় অনেকের নাম তালিকাভুক্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর স্ক্যানিং করা বহু জাল সনদ বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে। (উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর ৭২ হাজার মুক্তিযোদ্ধা সনদে স্বাক্ষর করেন।)
যেহেতু প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর এমবুস করা স্বাক্ষর থাকায় এবং অনুরূপ সার্টিফিকেট স্ক্যানিং করে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়েছে।
যেহেতু চাকরি লাভের জন্য জেলা/উপজেলা কমান্ডারগণের স্বাক্ষর জাল করে বা প্রকৃত গুরুত্ব অনুধাবন করে বা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করেই ইচ্ছেমতো স্বাক্ষর করার কারণে এবং ক্ষেত্র বিশেষে পক্ষপাতমূলক আনুকূল্যের কারণে এবং প্রদত্ত অধিকাংশ সার্টিফিকেট যথাযথ যাচাই করে প্রদান করা হয়নি মর্মে বহু অভিযোগ রয়েছে।
যেহেতু অনেকে তালিকাভুক্তির জন্য অনলাইনে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরাসরি জামুকায় আবেদন করেছেন এবং সর্বোপরি যেহেতু সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক ও নিখুঁত তালিকা প্রণয়ন প্রয়োজন। সেহেতু এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
এদিকে, জামুকা আইনের বাইরে গিয়ে ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জামুকার সুপারিশ ছাড়া প্রায় ৪০ হাজার ব্যক্তির নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বেসামরিক গেজেট যাচাইয়ের জন্য ২০২০ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বেসামরিক গেজেট যাচাই-বাছাই নির্দেশিকা-২০২০ নামক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। ২০১৬ সালের নীতিমালায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সাত সদস্যের কমিটি করা হয়। এছাড়া যাচাই-বাছাইয়ের অন্যসব প্রক্রিয়া ২০১৬ সালের নীতিমালার মতোই।
মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় মন্ত্রী এমপি রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠন এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা উপজেলায় নানা রকম কারসাজি, জাল-জালিয়াতি, দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দলীয় ক্যাডার, ভুয়া স্বঘোষিত ও সুযোগসন্ধানী কোটিপতিদের মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যাচাই-বাছাই কালীন সময়ে বাতিল হওয়া তালিকা ভুক্ত হাজার হাজার ভুয়া স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্ত করা হয়।
এদিকে ৬ বার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার বয়স সংজ্ঞা ও মানদণ্ড ১১ বার পাল্টানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০২১ সালে ১৬ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার বয়স ৬ মাস কমিয়ে সাড়ে ১২ বছর করা হয়েছে। জাল-জালিয়াতি, দলীয়করণ, আত্মীয়করণ ও অবৈধ অর্থের বিনিময়ে যে সকল মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছিল তাদের বয়স ১৩ বছরের নিচে ছিল। প্রকৃত অর্থে সাড়ে ১২ বছরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া বিষয়টি পৃথিবীর ইতিহাসে একটি জঘন্যতম জালিয়াতি। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধার বয়স ছিল ১৬ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের তালিকা পর্যবেক্ষণ করলে এই সত্য বেরিয়ে আসবে। সাড়ে ১২ বছরের একটি ছেলের পক্ষে রাইফেল, এসএলআর, এলএমজি পরিচালনা, ৩৬ হ্যান্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ, বারুদ দিয়ে ব্রিজ, কালর্ভাট, রেলওয়ে লাইন উড়িয়ে দেয়া সম্ভব নয়। এদিকে ১৯৭৩ সালে যারা সেনাবাহিনীর সিপাহী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিল তাদের মধ্যে অনেকেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তারা যুদ্ধ না করে আর্মি গেজেটের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।
অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অন্য কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগে বাতিল হওয়ার পরেও তাদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়নি। এই জালিয়াত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো রূপ আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও পেনশন ভাতা দেওয়া হয়েছে। এই প্রতারকেরা দেশে কিংবা বিদেশে আলিশান জীবনযাপন করছে। এই নিকৃষ্ট চক্রটি (অর্থাৎ দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত, দুর্নীতিবাজ আমলা দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী দুর্বৃত্ত) হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত ৩ জুন ’২৫ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা আইন সংশোধন কল্পে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। উক্ত অধ্যাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরিবর্তনে বলা হয়েছে ২০২২ সনের ১৫ নং আইনের প্রস্তাবনার সংশোধন। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২ (২০২২ সনের ১৫ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এর প্রস্তাবনায় উল্লিখিত ুজাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রাখিবার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করিবার লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গঠন করিবার স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের” শব্দগুলির পরিবর্তে ুজাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রাখা, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী পরিবারের” শব্দগুলি ও কমাগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।
২০২২ সনের ১৫ নং আইনের ধারা ২ এর সংশোধন। উক্ত আইনের ধারা ২ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ২ প্রতিস্থাপিত হইবে—
পাক বাহিনী এবং তাদের এই দেশীয় সহযোগী রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন এইরূপ সকল বেসামরিক নাগরিক, উক্ত সময়ে যাঁদের বয়স সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সর্বনিম্ন বয়সের মধ্যে; এবং সশস্ত্র বাহিনী, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ই পি আর), পুলিশ বাহিনী, মুক্তিবাহিনী, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) ও উক্ত সরকার কর্তৃক স্বীকৃত অন্যান্য বাহিনী, নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স, আনসার সদস্য এবং বাংলাদেশের নিম্নবর্ণিত নাগরিকগণও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবেন—
পরে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কর্তৃক বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল অনুমোদন দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল জেলা ইউনিট কমান্ড অনুমোদন করেন। জেলা ইউনিট কমান্ড উপজেলা কমান্ডসমূহ গঠন ও অনুমোদন করেছেন।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সশস্ত্র রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী হতে পারবেন না। কেননা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সংগঠন। বিগত ৫৪ বছরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে দলীয়করণ করায় লক্ষাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি হয়েছে।