রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

দশম গ্রেডসহ তিন দাবি না মানায় প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি, থমকে গেল পাঠদান


প্রকাশ :

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি পূরণ ও শাহবাগে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন সহকারী শিক্ষকরা। এতে সারাদেশের প্রায় ৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামসুদ্দিন মাসুদ কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “দাবি বাস্তবায়ন ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রোববার থেকে সারাদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলবে। শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।”

এর আগে বিকেলে শাহবাগে ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপে বহু শিক্ষক আহত হন। শামসুদ্দিন মাসুদ জানান, “শিক্ষকদের ওপর পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়েছে, শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন, অনেকে হাসপাতালে।”

ঘটনার পর শিক্ষকরা শাহবাগ এলাকা ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় আশ্রয় নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে বহু শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

শিক্ষকদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. সহকারী শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করা।
২. উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান।
৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। ফলে কর্মবিরতি শুরুর পর থেকেই এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল সরকার প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে থাকা শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সহকারী শিক্ষকরা এ সিদ্ধান্তে বৈষম্যের অভিযোগ এনে আন্দোলনে নামেন।

অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকদের আরেক অংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে সরকারকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে। তাদের দাবি—দাবি পূরণে অগ্রগতি না হলে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

তারা আরও জানিয়েছেন, ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাবে শিক্ষক সমাজ।