রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ার আশঙ্কা


প্রকাশ :

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের তৎপরতা বেড়েছে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির ঘটনায় প্রায় প্রতিদিনই অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে সহিংসতার আশঙ্কাও।

রাজনৈতিক দলগুলো সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা ঘোষণার পর অনেক এলাকায় বিরোধী পক্ষের মহড়া শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের প্রদর্শন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকায় নির্বাচনি জনসংযোগের সময় বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর লুট হওয়া অস্ত্রের বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্রের কিছু স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্রের হাতে রয়েছে, যারা এসব ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। রাজধানী থেকে শুরু করে সীমান্তবর্তী এলাকায় রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্যের লড়াইকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইসফাক ইলাহি বলেন, “নির্বাচনের আগে যেভাবে অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে, তাতে নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এখনই কঠোর অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।”

যৌথ বাহিনীর চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩৫০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রায় পাঁচ হাজার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর তথ্যমতে, ৫ আগস্টের পর লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে। তবু এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার বাকি।

সম্প্রতি বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন তল্লাশি করে আটটি বিদেশি পিস্তল, ১৪টি ম্যাগাজিন ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকা থেকেও বিজিবি বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর জব্দ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারণা করছে, এসব অস্ত্র সীমান্তপথে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে ঢুকছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত ৪৮৪টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে র‍্যাবের লুট হওয়া ৯০টি ও পুলিশের লুট হওয়া ২২৮টি অস্ত্র রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে অবৈধ ১৬৬টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, সীমান্তের অন্তত ২৫টি পথ দিয়ে অস্ত্র দেশে প্রবেশ করছে। এর মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, কুমিল্লা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার সীমান্তপথগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত প্রশাসনকে সহযোগিতা করে অস্ত্রবিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা। তারা সতর্ক করে বলেন, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার শুধু নির্বাচনি সহিংসতাই নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, “অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে উৎসাহ দিতে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে।”

সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। খুলনা, চট্টগ্রাম ও সুনামগঞ্জে সংঘটিত এসব ঘটনায় একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ—আগামী মাসগুলোতে যদি এসব অস্ত্র উদ্ধার না হয়, তাহলে সহিংসতার আশঙ্কা আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।