মোহরানা বা মোহর হলো স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার এবং স্বামীর ওপর ফরজ ঋণ। তবে কখন ও কীভাবে এই মোহর পরিশোধ করতে হবে, তা নির্ভর করে মোহরের ধরন ও নির্ধারিত শর্তের ওপর।
যদি মোহর এমন হয় যে স্ত্রী যখন দাবি করবেন, তখন দিতে হবে—তাহলে স্ত্রী দাবি করলেই স্বামীর জন্য তা পরিশোধ করা ওয়াজিব। আর যদি মোহরের জন্য নির্দিষ্ট সময়—যেমন এক বছর বা দুই বছর—নির্ধারণ করা থাকে, তাহলে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর স্ত্রী মোহর দাবি করতে পারেন, এবং তখন স্বামীর জন্য তা পরিশোধ করা ফরজ। তবে সময় শেষ হওয়ার আগে স্ত্রী তা দাবি করতে পারবেন না।
কিন্তু যদি মোহর শুধু বিলম্বিতভাবে নির্ধারিত হয়, অথচ কোনো নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ না থাকে, তাহলে সেটি সাধারণত বিচ্ছেদের পর (তালাক বা স্বামীর মৃত্যু) পরিশোধযোগ্য হিসেবে গণ্য হয়। এমন অবস্থায় স্ত্রী জীবিত দাম্পত্য জীবনে মোহর দাবি করতে পারেন না।
এখন প্রশ্ন হলো, যদি প্রথম দুই ক্ষেত্রে স্বামী মোহর পরিশোধে অক্ষম হন—তাহলে কি স্ত্রীর সঙ্গে থাকা বৈধ?
এ বিষয়ে ইসলামি শরীয়তের নির্দেশনা স্পষ্ট। যদি স্ত্রী স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্ট মনে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে রাজি থাকেন, তবে দাম্পত্য সম্পর্ক বৈধ। কিন্তু যদি স্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন যে, মোহর না পাওয়া পর্যন্ত সম্পর্ক স্থাপন করবেন না, তবে স্বামী তাকে বাধ্য করতে পারবেন না। শরীয়ত তাকে সেই অস্বীকারের অধিকার দিয়েছে।
অন্যদিকে, যদি মোহর এমনভাবে নির্ধারিত থাকে যে তা কেবল বিচ্ছেদের পর প্রদানযোগ্য, তাহলে স্ত্রী সেই সময়ের আগে সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না—এক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর সহবাস বৈধ থাকবে।
সারকথা, মোহর কেবল আর্থিক নয়—এটি স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার ও স্বামীর ধর্মীয় দায়। তাই একে অবহেলা না করে সামর্থ্য অনুযায়ী দ্রুত পরিশোধের চেষ্টা করা উচিত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা ঠিক নয়। এটি বিশ্বাস, দায়িত্ব ও সম্মানের বিষয়ও বটে।
সূত্র:
মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৪/৩৬০; আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়া ১/৩১৮; আল-মাবসুত (আস-সারাখসি) ৬/১৯০; বাদায়েউস সানায়ে ৫/৪৬৮।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি সফিউল্লাহ, শিক্ষক, জামিয়া মিফতাহুল উলুম, নেত্রকোনা।