রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুনের সূত্রপাত যেখান থেকে ? এ পর্যন্ত আহত ২৫


প্রকাশ :

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় এ আগুনের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সের স্কাই ক্যাপিটাল লাউঞ্জ থেকেই আগুনের সূচনা হয়। লাউঞ্জটি বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের পাশেই অবস্থিত। শুরুতে ধোঁয়া দেখা গেলে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ ফায়ার স্টেশন তা নেভানোর চেষ্টা করে, কিন্তু সেখানে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থের কারণে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো কমপ্লেক্সে।

ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও আনসার সদস্যরা সম্মিলিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আনসার বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণে অংশ নেন। তাদের মধ্যে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত সিএমএইচ ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আনসার বাহিনীর উত্তর জোন কমান্ডার মো. গোলাম মৌলাহ তুহিন জানান, সদস্যরা আগুন লাগার পরপরই সাহসিকতার সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা প্রথমেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. মাসুদুল হাসান মাসুদ বলেন, কার্গো সেকশনের পাশে একটি অংশে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস, বিমানবাহিনী এবং অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা একযোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। আপাতত ফ্লাইট ওঠানামা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

কার্গো ভিলেজে থাকা কুরিয়ার কোম্পানিগুলোর বিশাল ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তামিম এক্সপ্রেস লিমিটেডের পরিচালক সুলতান আহমেদ বলেন, “আমাদের আড়াইটন গার্মেন্টস আইটেম—বাটন, জিপার, ফেব্রিকসসহ—সবই পুড়ে গেছে।” অন্যদিকে, মাস্টার ইয়ার কোম্পানির সিএনএফ এজেন্ট রোকন মিয়া জানান, প্রতিদিন টন টন মাল এখানে আসে। স্কাই লাউঞ্জে কেমিক্যাল, ফেব্রিক, মেশিনারিজসহ নানা দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেমিক্যাল থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিকেল পর্যন্ত পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে ছিল, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি ও ফোম দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে এবং দগ্ধ কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানান, রাতের মধ্যেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।