লালমনিরহাট জেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয় ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে রংপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার মৃত্যুতে মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ আজ ৮ সেপ্টেম্বর বাদ যোহর তার নিজ গ্রামের বাড়ি ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে লালমনিরহাট বিডিআর হাট কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ লালমনিরহাট জেলা ইউনিট কমান্ডের শোকবার্তা :
লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সাহসী যোদ্ধা হাফিজুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ লালমনিরহাট জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক গেরিলা লিডার এসএম শফিকুল ইসলাম কানু।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন দেশের স্বাধীনতার জন্য। পরবর্তীতে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার চেতনা রক্ষায় নিরলস কাজ করেছেন। তার মৃত্যুতে জাতি একজন সৎ, সাহসী এবং নির্লোভ নেতাকে হারালো। আমরা তার অবদান চিরকাল কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করব।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, যেন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।”
লালমনিরহাট বার্তা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ড. এএসএম মনোওয়ারুল ইসলাম ও বার্তা সম্পাদক সৈকত ইসলাম শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মরহুমের বিদাহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।