বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর—এমনটাই জানিয়েছেন তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, "নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন এবং সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেবেন।"
হুমায়ুন কবিরের মতে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমান একাধিক আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ১৩ জুলাই লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি ছিল প্রায় ঘণ্টাখানেক দীর্ঘ এবং তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে বলে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির।
বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় ছিল নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর প্রসঙ্গ
হুমায়ুন কবির বলেন, “লন্ডনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রধানত তিনটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে—আগামী নির্বাচন কীভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, নির্বাচনের পর বিএনপির সরকারের কাঠামো ও দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিএনপির সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সম্পর্ক কেমন হতে পারে তা ব্যাখ্যা করা।”
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষপাতী। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপিও তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
“বিএনপির লক্ষ্য, নিরপেক্ষ নির্বাচন ও একটি জনগণের সরকার”
বিএনপির ভবিষ্যৎ রূপরেখা সম্পর্কে বলতে গিয়ে হুমায়ুন কবির জানান, “আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে বিএনপি একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করতে চায়। সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই তারেক রহমান দেশের মাটিতে পা রাখবেন এবং জনগণের রায়ের ভিত্তিতে সরকার গঠনে নেতৃত্ব দেবেন।”
তারেক রহমানের ফেরাকে ঘিরে বিএনপির প্রস্তুতি
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি এখন দলের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলীয় পর্যায়ে তার নিরাপত্তা, নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ, প্রচার কার্যক্রম, আইনগত জটিলতা ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে পরিকল্পনা নেওয়া শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরলে রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং বিএনপির মধ্যে এক ধরনের উজ্জীবন ঘটবে। তবে সরকারিভাবে বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।