লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশিক্ষণ নিতে আসা শিক্ষার্থীরা।
তাদের অভিযোগ, ভর্তি থেকে শুরু করে সনদ প্রদান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে লেনদেন এবং নিম্নমানের কাঁচামাল ও সরঞ্জাম কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম চলছে। এ অবস্থার প্রতিবাদে রোববার সকালে শিক্ষার্থীরা লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এবং অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি জানান। একপর্যায়ে আন্দোলনের মুখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদত্যাগে বাধ্য হন।
অভিযোগে জানা যায়, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নির্ধারিত বাজেট অনুযায়ী প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ব্যাগ, খাতা, কলম, টি-শার্ট ও সিবিএলএম ট্রেইনিং সামগ্রীর জন্য ১,৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী। এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটিতে স্বজনপ্রীতি, কর্তৃত্বের অপব্যবহার এবং অনৈতিক পরিবেশ তৈরিরও অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং তারা আন্দোলনে ফেটে পড়ে।
প্রশিক্ষণার্থী রিনা বলেন, “আমরা পাঁচটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিচ্ছি, কিন্তু এখনো কাঁচামাল পাওয়া যায়নি। তিন মাসের কোর্স প্রায় শেষ, অথচ কোনো প্র্যাকটিক্যাল কাজ করা যাচ্ছে না। যেসব পুরোনো উপকরণ ব্যবহার করানো হচ্ছে, তা থেকে কেউ কেউ আহতও হয়েছেন। বারবার বললেও অধ্যক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেননি।”
অন্য এক শিক্ষার্থী সানজিদা সাথী বলেন, “অধ্যক্ষের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদেই আমরা সড়ক অবরোধ করেছি। প্রশিক্ষণ উপকরণ সময়মতো দেয়া হয় না, আর যা দেয়া হয়, তা খুবই নিম্নমানের।”
শিক্ষার্থী আসাদ বলেন, “আমাদের একটাই দাবি—প্রিন্সিপালকে পদত্যাগ করতে হবে।”
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ শাহীন আখতার বলেন, “শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমি বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা আলোচনায় রাজি হয়নি। তাই শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই আমি পদত্যাগ করেছি।”
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা বলেন, “একজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি না। যদি অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। আর জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হলে সেটি অফিসিয়ালি বৈধ হয় না।”