উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি কমতে শুরু করলেও লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলায় নদী তীরবর্তী এলাকার অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। যদিও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে, তবুও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সুত্রে জানাগেছে, বুধবার সন্ধা ৬টার দিকে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল থেকেই পানি বিপৎসীমার নিচে নামতে শুরু করে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও হ্রাস পায়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে অতিরিক্ত পানির চাপে হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী এলাকায় একটি কাঁচা রাস্তা ধসে পড়ে এবং একটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে আরও মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া ও গড্ডিমারী ইউনিয়ন; কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়ন; আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ ও গোকুণ্ডা ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও মাছের ঘের। অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়েছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে পানি বাড়তে শুরু করে। তার ইউনিয়নের অন্তত দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সড়ক ধসে যাওয়ায় অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, তিস্তার পানি মঙ্গলবার বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল। ধুবনী এলাকায় একটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বুধবার সকালে পানি কিছুটা কমেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানির স্তর স্থিতিশীল থাকবে এবং এরপর ধীরে ধীরে পানি আরও কমে যাবে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য চাল, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।