রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগেই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের জন্য বাসা খোঁজার তৎপরতা


প্রকাশ :

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও ঘোষিত না হলেও, নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের আবাসনের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতিমধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে সম্ভাব্য বাসভবনের জন্য একাধিক বিকল্প সুপারিশ করেছে।

হেয়ার রোডে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সম্ভাব্য স্থান

সরকারি নথি অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে হেয়ার রোডের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ও এর পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলো। বর্তমানে এই জায়গাগুলোর একটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এই এলাকাটি নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।

কমিটির একজন সদস্য বলেন, “শেরেবাংলা নগরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পুরোনো স্থানটিও সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। কিন্তু লুই আই কানের নকশার বাইরে বড় কোনো স্থাপনা সেখানে নির্মাণ করা আইনসঙ্গত এবং সময়োপযোগী হবে না বলে সেই জায়গা বাতিল করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে থেকেছেন। কিন্তু শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী ৫ আগস্ট এই জাদুঘর উদ্বোধনের কথা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো প্রধানমন্ত্রী আর গণভবনে বসবাস করতে পারবেন না।

মন্ত্রীদের জন্য বাড়ি খোঁজার কারণ

বর্তমানে রাজধানীতে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত ১৫টি বাংলো রয়েছে মিন্টো ও হেয়ার রোডে। পাশাপাশি বেইলি রোডে ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’ নামে তিনটি ভবনে রয়েছে ৩০টি ফ্ল্যাট। প্রতিটি ফ্ল্যাট প্রায় ৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের, যেখানে চারটি শয়নকক্ষসহ রয়েছে অফিস ও অভ্যর্থনা কক্ষ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।

তবে এসব ফ্ল্যাটের একটি বড় অংশ বর্তমানে ব্যবহার করছেন বিচারপতি, উপদেষ্টা, নির্বাচন কমিশনার, দুদক কমিশনার ও সরকারের উচ্চপদস্থ আমলারা। সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, এটি অবৈধ নয়, তবে প্রশাসনিকভাবে অস্বস্তিকর। বিশেষ করে বিচারপতিদের মন্ত্রীদের সঙ্গে একই কমপ্লেক্সে বসবাস অনৈতিক বলে মত দিয়েছেন সাবেক এক বিচারপতি।

সাবেকদের দখলে থাকার ফলে সংকট

‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এর ৩০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১২টি বর্তমানে দখলে রেখেছেন বিচারপতিরা, বাকিগুলো উপদেষ্টা ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে কাকরাইলে বিচারপতিদের জন্য নির্ধারিত ২০ তলা ভবনের ৭৬টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২৪টি এখনো খালি পড়ে আছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন মন্ত্রীদের জন্য যথাযথ বাসস্থান বরাদ্দে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, যা এড়াতেই আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “নতুন সরকার গঠনের পর এসব ফ্ল্যাট থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়া বিব্রতকর হবে। তাই বিকল্প আবাসন নিশ্চিত করার কাজ এখন থেকেই শুরু করা হয়েছে।”

নতুন আবাসন নির্মাণের প্রস্তাব

কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মিন্টো রোডের ৩৩ ও ৩৪ নম্বর বাংলোবাড়ির জমি যথাক্রমে ৯০ ও ৯৭ কাঠা। এখানে ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করে অন্তত ১২ জন মন্ত্রীর আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব। বর্তমানে এই বাড়িগুলো বরাদ্দ রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টার নামে।

বেইলি রোডের ২০ ও ২১ নম্বর বাংলোবাড়িতেও ভবন নির্মাণ করে ১২ জন মন্ত্রী ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তার থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই দুটি বাংলোবাড়ির জমির পরিমাণ ১২১ কাঠা। তবে এসব বাংলোবাড়ির ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব থাকায় তা ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ যৌক্তিক হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কমিটি জানিয়েছে, স্থাপত্য অধিদপ্তর ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

পরিত্যক্ত জমিতে নতুন প্রকল্প

এছাড়াও গুলশানের ২০ নম্বর এবং ধানমন্ডির ১২০ নম্বর রোডের দুটি পরিত্যক্ত বাড়িতে মন্ত্রীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি। উভয় জমির পরিমাণ ২০-২১ কাঠা।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে অন্তর্বর্তী সরকার

কমিটির প্রধান ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহম্মেদ জানিয়েছেন, “নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের আবাসনের বিষয়ে কমিটি প্রয়োজনীয় সুপারিশ করেছে। এখন সিদ্ধান্ত নেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।” (সুত্র-প্রথম আলো, অনলাইন ভার্সন)