রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের নির্বিচার গুলি, শেখ হাসিনার অনুমতির অডিও ফাঁস


প্রকাশ :

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে কমপক্ষে ৫২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন বলে বিবিসি আই ইনভেস্টিগেশনস-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ পুলিশি সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটে সেদিন, যেদিন শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। ঘটনার দিন ও স্থান থেকে শত শত ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন চিত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বিবিসি।

কীভাবে শুরু হয় গুলিবর্ষণ

এক আন্দোলনকারীর মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিকেল ২টা ৪৩ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ আকস্মিকভাবে গুলিবর্ষণ শুরু করে। ভিডিও ধারণকারী মিরাজ হোসেন নিজেও ওই গুলিতে নিহত হন।

৩০ মিনিটের গণহত্যা

ড্রোন ফুটেজে দেখা যায়, ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলে গুলি। রাস্তায় পড়ে থাকেন অনেক নিহত ও আহত বিক্ষোভকারী। রিকশা ও ভ্যানে আহতদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও ধরা পড়ে ভিডিওতে।

ভিডিও বিভ্রান্তি ও যাচাই

বিবিসি নিশ্চিত করেছে, আগে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও আসলে ৪ আগস্ট ধারণ করা হয়েছিল। সেটিকে ভুলভাবে ৫ আগস্টের ভিডিও বলে প্রচার করা হচ্ছিল।

৫২ জন নিহতের প্রমাণ

হাসপাতালের নথি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পরিবারগুলোর সাক্ষ্য যাচাই করে বিবিসি নিশ্চিত করেছে, সেদিন অন্তত ৫২ জন নিহত এবং আরও ছয়জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারান। ঘটনার সময় ওসি আবুল হাসানসহ থানার বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।

শেখ হাসিনার অনুমতির অডিও ফাঁস

বিবিসি এক ফাঁস হওয়া অডিও বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, শেখ হাসিনা নিজেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়, “তাদের যেখানে পাবা, গুলি করবা।” অডিওটি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে এবং এটি এডিট করা হয়নি বলেই প্রমাণ মিলেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের বক্তব্য

বিবিসিকে দেওয়া এক ই-মেইলে পুলিশ জানায়, "ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রত্যেক অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা হবে।" তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বলেন, “শেখ হাসিনার ফাঁস হওয়া রেকর্ডিং তার ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও গুরুত্ব পাবে।”