রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

স্বচ্ছ ভোটের পরিবেশ ছাড়া যেন-তেন নির্বাচন জনগণ চায় না : সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী


প্রকাশ :

“স্বচ্ছ ভোটের পরিবেশ ছাড়া যেন-তেন নির্বাচন জনগণ চায় না”—বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী। ৬ জুলাই (রবিবার) বিকেলে রাজধানীর পান্থপথে সেল সেন্টার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আসাদের সহোদর ড. আজিজুল্লাহ এম নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন—সাবেক মন্ত্রী নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, সাবেক বিচারপতি ড. মো. আবু তারিক, কর্নেল (অব.) ড. প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, লে. কর্নেল (অব.) আবু ইউসুফ যোবায়ের উল্লাহ, ড. শফিকুল ইসলাম কানু, ড. প্রকৌশলী লুৎফর রহমান, পারভীন নাসের খান ভাসানী, সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা শওকত আলী খান, আবুল কালাম আজাদ, নজরুল গবেষক কবি এইচ. এম. সিরাজ, অ্যাডভোকেট আবুল বাসার, কবি কাজী আলম এবং নাহিদ গ্রুপ কর্তৃক নির্যাতিত হাসিবুল হাসান রাজিব প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করে নতুন ফ্যাসিস্ট শক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের ৮৭% নির্যাতিত, নিপীড়িত ও মজলুম জনগণ প্রতিহত করবে।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে। মাত্র ১৩% সুযোগসন্ধানী চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, মাফিয়া সিন্ডিকেট, রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত, ব্যবসায়িক দুর্বৃত্ত, আমলা দুর্বৃত্ত ও অন্ধ দলান্ধদের প্রভাব থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। জাপান, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো দুর্নীতিমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি দেশের সব শ্রেণি-পেশার দেশপ্রেমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

এ সময় বক্তারা জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার প্রতি দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সঙ্গে জরুরি আলোচনার আহ্বান জানান। দাবিগুলো হলো:

১. দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করা।

২. সরকার পরিচালনার পদ্ধতি ও রাজনৈতিক দলের কাঠামো সংস্কার।

৩. আইন ও বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও কার্যকর করা।

৪. শিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের জন্য জাতীয় শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন।

৫. সংবিধান সংশোধন ও যুগোপযোগী সংস্কার।

৬. বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হিসেবে ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তকরণ।

৭. দুর্নীতি দমন ও প্রবীণ কল্যাণে পৃথক স্বাধীন মন্ত্রণালয় গঠন।

৮. প্রশাসনমুক্ত ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ‘ভোটার ক্লাব’-নির্ভর নির্বাচন পদ্ধতি চালুসহ স্বাধীন নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন।

৯. পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পূর্ণ স্বাধীনতা ও কাঠামোগত সংস্কার।

১০. রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে দুর্নীতিমুক্ত করে, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-কে বিশ্বমানের সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা।

১১. গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করে সিন্ডিকেটমুক্ত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় উৎসাহ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।