রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

চুয়ান্ন বছরেও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ হয়নি- মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা


প্রকাশ :

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক  বলেন , স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছরেও মুক্তিযোদ্ধাদের কোন বাস্তব কল্যাণ হয়নি। অথচ তাদের কল্যাণের জন্য অজস্র রাষ্ট্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত করা হয়েছিল। দেশে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আছে, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আছে, জামুকা আছে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ হয়নি। এখানে যারাই গেছেন, দায়সারা ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেগুলোর কোন সঠিক হিসাবও রাখা হয়নি। কোন নজরদারীও করা হয়নি। অনেক কিছই বেহাত হয়ে গেছে। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। সমস্ত সম্পদের অডিট করা করা হচ্ছে। আশা করি, অচিরেই সম্পদগুলোর একটা পরিচ্ছন্ন চিত্র পাওয়া যাবে। এরপর আমরা দেখবো, এগুলো কিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজে লাগানো যায়।

 আজ ২৬ জুন নিউ ইস্কাটনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নবনিযুক্ত আহবায়ক কমিটির শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে  আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক একথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন,  কারো  আদেশে মুক্তিযোদ্ধারা  মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি।  দেশমাতৃকার  মুক্তির জন্য তারা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। দেশপ্রেম ছাড়া কেউ জীবন উৎসর্গ করতে যায় না।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ছিল একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। পরবর্তীতে এই সংগঠনকে রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করা হয়েছে। এই সকল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকার) মাধ্যমে তাদেরকে বাতিল করা হবে। আদালতে মামলা করে ৫বছর  বয়সের শিশুকেও মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করা হয়েছে। তিনি  নবগঠিত আহবায়ক কমিটিকে জেলা, উপজেলায় কমিটি গঠনের মাধ্যমে  ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের  খুঁজে বের করার আহবান জানান।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক নঈম জাহাঙ্গীর বলেন,একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধারা ছিল তার অগ্রণী বাহিনী। কিন্তু বিজয়ের পর জনগণকে বঞ্চিত করে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জনগণ থেকে  থেকে বিচ্ছিন্ন করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে একটি নব উপনেবেশিক ধারণার মধ্যে নিপতিত করে।একটি রাজনৈতিক মাফিয়াচক্র রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নেয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এখানেই লক্ষ্য অর্জনের ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে দেখা যায় একটি বানোয়াট  বয়ান তৈরি করে ব্যক্তি ও কিছু সংখ্যক স্বার্থান্বেষী রাজনীতিকর ভূমিকায় সর্বাধিক গুরুত্ব  প্রদান করা হয়। এরেই ধারাবাহিকতায় তাদের দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা  তৈরি করা হয়। চূড়ান্তভাবে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের  সংখ্যা  দ্বিগুণেরও বেশি।

তিনি বলেন, ২৪ জুলাই গণ অভুথ্যানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।  রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে  বাংলাদেশে জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে জনগণের অংশগ্রহণের  মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা দেশ ও জনগণের অতন্দ্র প্রহরী হিসেেব সদা জাগ্রত থাকবে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব সাদেক আহমেদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত  বক্তব্য রাখেন নবগঠিত কমিটির আহবায়ক নইম জাহাঙ্গীর।তিনি কমিটির সকল সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

গত ২৪ জুন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল- জামুকার নির্বাহী কমিটি  বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ১১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছিল। কমিটিতে নইম জাহাঙ্গীর আহবায়ক এবং সাদেক আহমেদ খান সদস্য সচিব মনোনীত হন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিবুর রহমান, সৈয়দ আবুল বাশার, সিরাজুল হক, অনিল বরণ রায়, জাহাঙ্গীর কবির, প্রকৌশলী জাকারিয়া আহমেদ, আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম, আব্দুল্লাহিল সাফি, আলহাজ্জ মনসুর আলী।