গত ১ জুন ঢাকাস্থ সেলেস সেন্টারে "বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণআন্দোলনের" নেতৃবৃন্দের হত্যাচেষ্টা ও এস আলমের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটে সহায়তাকারী সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটি এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির স্থায়ী সদস্য, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এবং ঢাকার সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। বক্তৃতা প্রদান করেন সাবেক সচিব কাসেম মাসুদ, জাতিসংঘের সাবেক বিচারক ড. মো. শাহজাহান সাজু, অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. সামছুদ্দিন, প্রকৌশলী ড. লুৎফর রহমান, উইং কমান্ডার মীর আমিনুল ইসলাম, নাগরিক ভাবনার আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান, মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, আদিনা খান প্রমুখ।
বক্তারা ভিডিও ফুটেজ উপস্থাপন করে দাবি জানান যে, সংগঠনের প্রাণপুরুষ সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরীর ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী জানান, ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখায় পাঁচটি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক লেনদেন করেছেন। কিন্তু ব্যাংক অবৈধভাবে ৫/৬ কোটি টাকার মুনাফা কেটে নেয়। তিনি জানান, থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে তিনটি কারখানা পরিচালনার সময় চীনের পেট ফ্লেক্স আমদানি নিষিদ্ধ হওয়ায় ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়ার ফলে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং ৮ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ১৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে বিদ্যুৎ, ইউটিলিটি বিল ও কর্মীদের বেতন পরিশোধ করতে হয়।
এরপর মানসিক চাপে স্ট্রোক করে তিনি ব্যবসা পরিচালনায় অক্ষম হন। ব্যাংকে বন্ধক রাখা সম্পত্তি ফ্যাসিস্ট সরকারের মদদে ও এস আলমের নির্দেশে কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ভেঙে ফেলা হয়। সুপ্রিম কোর্টের রিট (নং ৪৫৬২/২০২১) আদেশ লঙ্ঘন করে তৎকালীন ডিসি আবু সালেহ ফেরদাউস খান, এডিসি সাইফুল ইসলাম ও ভূমি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলমের সহযোগিতায় সম্পত্তি দখল করা হয় এবং ক্ষতিপূরণের নথি গায়েব করে দেওয়া হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং নম্বর ৫১, মাতুয়াইল পশ্চিম পাড়া, ওয়ার্ড ৬৩-এর শত শত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করেও সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী তার মালিকানা ফিরে পাননি। ব্যাংকে বহুবার আবেদন করলেও ফারহা ট্রেড সেন্টারের কোনো দেনা না থাকা সত্ত্বেও ২০১৩ সাল থেকে রিডেম্পশন না দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়। ২০২২ সালের ৩ নভেম্বর সর্বশেষ রিডেম্পশনের আবেদন করা হলেও তা অগ্রাহ্য করা হয় এবং এস আলম তার লুটেরা বাহিনী দিয়ে হত্যাচেষ্টা চালাতে থাকে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১৯৮৪ সালে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি এস আলমকে অবৈধ সিগারেটসহ কমলাপুর রেলস্টেশনে আটক করেন, কিন্তু সে তখন পুলিশের সহযোগিতায় পালিয়ে যায়। পরে ২০১৭ সালে ফ্যাসিস্ট সরকার ও শেখ হাসিনার পরিবারবর্গের সহযোগিতায় এসআইবিএলসহ আটটি ব্যাংক দখল করে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে যে, এস আলমের নির্দেশে এবং জামাতা বেলালের সহযোগিতায় ব্যাংকের কর্মকর্তারা—মাহফুজ আলম, মোস্তফা কামাল, ফারুক আহমেদ, কাজী ওসমান আলী, জাফর আলম, ফোরকান উল্লাহ, নাজমুস সাদাত, মিজানুল কবির ও জহির উদ্দিন—হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। এরা বৈষম্যবিরোধী জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত। তারা ব্যাংকের অনুরোধে, স্বাক্ষরবিহীন একটি খালি চেকে ১ কোটি টাকা লিখে তার নামে এনআই অ্যাক্টে মামলা দায়ের করে এবং কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করানো হয়, যদিও ২০১৩ সালেই ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল।
গত ২৫ মে, সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী জানান, তার পিতার মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে তিনজন ব্যক্তি তার ধানমণ্ডির বাসায় ঢুকে তাকে হত্যার চেষ্টা করে। তার ছেলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে তারা পালিয়ে যায়। আরমান নামের এক সন্ত্রাসী এবং তার সহযোগীরা বিভিন্ন নাম্বার থেকে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটি অবিলম্বে বৈষম্যবিরোধী জুলাই আন্দোলনের হত্যাকারী, এস আলম ও তার সহযোগী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছে।