রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা উদযাপন


প্রকাশ :

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। বুধবার (৯ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে পূজা মূল আনুষ্ঠানিকতা। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকে মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচারে (ষোল উপাদানে) দেবীর পূজা হচ্ছে। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হয়। একইসঙ্গে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করেন ভক্তরা। পূজা উদযাপনকে ঘিরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকেশ্বরী মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, বেলা গড়ানো সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। নতুন রঙে রাঙানো হয়েছে মন্দিরের সবগুলো ভবন। পুরো মন্দিরে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। প্রবেশদ্বারে রাখা হয়েছে চেকিং ব্যবস্থা। মন্দিরে আসা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বেষ্টনী মেনে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। আছে পুলিশ, র‍্যাব ও বিভিন্ন সংস্থার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।

মন্দির ঘুরে আরও দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করছেন। সেজেগুজে ছবি তুলছেন কেউ কেউ। মন্দিরের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অনেকে।

রাজধানীর শ্যামলী থেকে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পূজা উদযাপন করতে আসেন বাংলাদেশে একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া দুই ভারতীয় শিক্ষার্থী সুনীল ও জাদব ভিবাংসী শর্মা। তারা বলেন, সকালে থেকে কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই সুন্দর পরিবেশে পূজা উদযাপন করছি। নিরাপত্তা ও সার্বিক বিষয়ে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেন তারা।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ভোর ৬টার আগে মন্দিরে প্রবেশ করেছি। এখানে আমি যেটি দেখেছি, নিরাপত্তার কোনও ঘাটতি নেই। সারা রাত জেগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা দিয়েছে। এখনও চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী রয়েছে। সকাল ৬টা থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আমরা আশা, কোনও ধরনের অসুবিধা হবে না।’

এ ছাড়া দুপুরে মন্দির পরিদর্শনে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার শঙ্কা নেই। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ যৌথবাহিনী মাঠে তৎপর। সেখানে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ইসরাইল হাওলাদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরিস্থিতি মাথায় রেখে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা সব ধরনের নিরাপত্তা জোরদার করেছি। প্রতিটি ইউনিট আলাদাভাবে কাজ করবে। যারা দর্শনার্থী আছেন, তাদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা, আবার দুষ্কৃতকারীদের নজরে রাখতে আলাদা টিম কাজ করছে।’

এদিকে আজ দুপুরে ঢাকেশ্বরী মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘পূজাকে কেন্দ্র করে কোনও ঘটনা ঘটতে পারে এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। সবাই যদি সহযোগিতা করেন, বাংলাদেশের সব মানুষ ৩৬৫ দিন নিরাপদে থাকবে। এবারের পূজার নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও র‍্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীকে নিরাপত্তার দায়িত্বে রাখা হয়েছে। যে স্থানে যে পরিমাণ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য প্রয়োজন, সেখানে সে পরিমাণ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আমি আশা করবো, এবার পূজা খুব ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হবে। পূজার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আট দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সবাইকে সেগুলো পালনের আহ্বান জানান তিনি।