রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস উপলক্ষে সেমিনার ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত


প্রকাশ :

২রা অক্টোবর - আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস উপলক্ষে, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (এসএইউ), ঢাকা, বাংলাদেশ-এ শান্তি ও অহিংসার লক্ষ্যে একটি সেমিনার ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারটি কৃষি অনুষদের সেমিনার রুমে এবং র‌্যালিটি  কৃষি অনুষদের একাডেমিক ভবন থেকে শুরু হয়ে শেখ কামাল ভবনে শেষ হয়। সেমিনার ও র‌্যালিতে এসএইউ’র শিক্ষার্থী এবং ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মানবতাবাদীরা অংশ নেন। SAU ‘র একটি সংগঠন 'আলোকিত মানুষ' এই কর্মসূচিতে তাদের সভাপতি কাজী নাফীস সোদসহ আলোকিত মানুষ এর সক্রিয় কর্মী নাহিদা আক্তার, ব্রততী দাস, মোঃ জুলফিকার আলী, মোঃ সায়েদ, সাইফুল ফাহিম, আফজাল হোসেন, তাসমিয়া মামুন মারিয়া, মোঃ হেলাল প্রমুখসহ সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করে এবং সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করেন। প্রফেসর ড. কাজী আহসান হাবীব, চেয়ারম্যান, ফিশারিজ, বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগ, SAU ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন।

এটি একটি বিস্ময়কর ও অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল যখন শিক্ষার্থীরা বর্তমান বিশ্বে মানুষের জন্য শান্তি ও অহিংসা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের সাথে তাদের মতামত ভাগ করে নেয়। সবার চিন্তা ও ভাবনা একই সূত্রে গাথা। শুধুমাত্র প্রায়োগিক ভিন্নতা রয়েছে। আজকের সেমিনার ও র‌্যালী সেই ভিন্নতার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছে।

2007 সালে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ (UN) ২রা অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনকে আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই বছর, আমরা এর সপ্তদশ বার্ষিকী উদযাপন করছি।

হিউম্যানিষ্ট সোসাইটি, মানবতাবাদী আন্দোলনের একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দল, বিশ্বে শান্তি ও অহিংসার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তার হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ২৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে। হিউম্যানিস্ট সোসাইটি, একটি সংস্কৃতি এবং একটি নতুন চেতনা যা সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করে, মানুষকে কেন্দ্রীয় মূল্য হিসাবে রাখে এবং সক্রিয় অহিংসাকে (Active NonViolence) কর্মের পদ্ধতি হিসাবে ব্যবহার করে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বর্তমান পরিস্থিতি সংকটজনক। সশস্ত্র সংঘাত পৃথিবী নামক গ্রহের বৃহৎ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে ও আর্থিক সংকট এবং একটি পারমাণবিক হুমকি যা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভাবনার বিষয়। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক "প্রাকৃতিক" বিপর্যয়সমূহ নাটকীয়ভাবে হাজার হাজার মানুষের জীবন শেষ করেছে, ঠিক যেমন আরও অনেক লোক একটি উন্নত ভবিষ্যতের সন্ধানে জোরপূর্বক অভিবাসন এর প্রত্যাশায় সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মারা যায় এবং আরও অনেকে বৈধ বা অবৈধ মাদকের আসক্তিতে আটকা পড়ে… উপরন্তু, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এবং ক্ষমতার কেন্দ্রগুলি দ্বারা আরোপিত অধিকার এবং জীবনমানের অবনতিকে স্বাভাবিকভাবে দেখা হচ্ছে, সর্বোপরি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের রাজনৈতিক বিবেককে হেরফের করা হচ্ছে।

যাইহোক, এটা সত্য নয় যে, সহিংসতা আমাদের মানব জাতির জন্য স্বাভাবিক কিছু হয়ে দাড়িয়েছে, কিন্তু আমরা আমাদের শান্তিতে বসবাসের অধিকার রাখি। সেই প্রাচীন, প্রাগৈতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি যা বলে যে "মানুষ মানুষের কাছে নেকড়ে" শুধুমাত্র ক্ষমতাবানদের মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করে, যারা তাদের নিজেদের জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায়। শাসকরা যারা তাদের যুবকদের হত্যা করতে পাঠায় এবং জনগণের প্রতি উদাসীন স্বার্থের দ্বারা পরিচালিত যুদ্ধে মারা যায়।

হিউম্যানিষ্ট সোসাইটি’র পক্ষ থেকে, আমরা আপনাকে প্রতিদিন এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করি আন্তরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে, আপনার চারপাশে, কর্মক্ষেত্রে, স্কুলে... আমরা আবিষ্কার করার চেষ্টা করব যে অন্যদের কষ্ট-বেদনা ও আনন্দ আমাদের সবার, তাই বলা যায় যে সবার থেকে এবং সবার জন্য না হলে কোন অগ্রগতি হবে না। অহিংসার এই সংস্কৃতিকে আমরা একটি নতুন সংবেদনশীলতা হিসাবে বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী করার জন্য ব্যবহার করবো, যা বিভিন্ন ধরণের সহিংসতার ক্রমবর্ধমান বিরোধিতায় এবং বর্তমান সহিংস ও অমানবিক দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম একটি শক্তি হিসাবে নিজেকে প্রকাশ করবে।

এই বছরে যেখানে শান্তি ও অহিংসার জন্য তৃতীয় বিশ্ব পরিভ্রমণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আমরা এই বৈশ্বিক পরিস্থিতির নিন্দা এবং শান্তি অর্জনের জন্য অহিংসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাই যোগ দেই। আগামী ১৭-২১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে বিশ্বপরিভ্রমণ দলের প্রধান রাফায়েল দে লা রুবিও’র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ পরিভ্রমণ করবেন। ১৭ অক্টোবর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় , ১৮ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯ অক্টোবর ঈশ্বরদী জেলায়, ২০ অক্টোবর ঢাকার উত্তরায় এবং ২১ অক্টোবর ধানমন্ডির লেক সরোবরে সভা, সেমিনার, বর্ণাধ্য র‌্যালী, শান্তি ও অহিংসার লক্ষ্যে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান, শান্তি’র সাইন তৈরী ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আপনারা সবাই যাযার প্রেক্ষাপট থেকে অহিংস ও যুদ্ধমুক্ত পৃথিবী গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করুন। সবার সতোস্ফুর্ত অংশগ্রহণে এই গ্রহ একটি যুক্তমুক্ত গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।