সারাদেশে অমুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। দলীয়করণ,আত্মীয়করণ,জাল-জালিয়াতি অবৈধ অর্থ ব্যয় অর্থাৎ ঘুষ ও দুর্নীতি অনিয়মের মাধ্যমে লক্ষাধিক অমুক্তিযোদ্ধা তৈরি করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। যারা নাম প্রত্যাহার করবে,তাদের জন্য দায়মুক্তি অর্থাৎ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। অমুক্তিযোদ্ধারা নাম প্রত্যাহার না করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আমীর আলী জানান, দায়মুক্তির বিষয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে ও স্থানীয় সংবাদপত্রে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হবে। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা নেয়ার সময় দায়মুক্তি মুক্তির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রচার পত্র প্রত্যেকের হাতে ধরিয়ে দেয়া হবে।যেকোনো ভাবেই হোক দায়মুক্তিরপত্র ভাতা প্রাপ্তদের প্রদান করা হবে।
যাচাই-বাছাই ও দায়মুক্তি ঘোষণা জারী করায় অমুক্তিযোদ্ধাদের দৌড়-ঝাঁপ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে যারা আওয়ামী লীগের দলীয় ব্যক্তি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে, অনেকেই এখন বিএনপির সাথে যুক্ত হয়ে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলে ভিড়ে গিয়ে উদয়মান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আবার অনেকেই জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের পদলহন শুরু করছে। অমুক্তিযোদ্ধারা শুধুমাত্র ভাতা গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হয়নি। এদের বেশিরভাগই ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। বীর নিবাসে বসবাস করছে, সন্তান, নাতি- নাতনিদের সরকারি- বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগসহ নানাবিধ সুবিধা-সুবিধা গ্রহণ করেছে। ঋণের ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে হলেও তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হতেই হবে।অনেকেই ঢাকায় অবস্থান করে তদবির করেই চলছে।জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে তদবির চলছে ।
সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুকী ই আজম বীর প্রতীক এর সাথে বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী পরিষদ'৭১এর নেতৃবৃন্দের এক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।এসময় তিনি বলেন, অমুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় সমস্যা।এই সমস্যা মোকাবেলা করে, অমুক্তিযোদ্ধাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে। প্রকৃত সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নিশ্চিত করা হবে। গৌরব উদ্ধার করা হবে।তিনি আরো বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি তারাও মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হয়েছে। এমনকি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েই অনেকেই ঢোল বাজিয়ে কিংবা পিটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে।এরা দায় মুক্তির সুযোগ গ্রহণ না করলে, কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।