রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

চাবুকের আইন বাস্তবায়ন করা হলে দেশে ৫০ ভাগ দুর্নীতিগ কমে যাবে - বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ


প্রকাশ :

 দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেছেন, চাবুকের আইন বাস্তবায়ন করা হলে দেশে ৫০ ভাগ দুর্নীতি কমে যাবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সামারি ট্রাইল করতে হবে। এরা অর্জিত সম্পদের হিসাব দিতে ব্যর্থ হলে তৎক্ষণিক  দোষী সাব্যস্ত করে ১০ ঘা চাবুক ও সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। এদেরকে জেলখানায় ১০-১২ বছর রেখে,খাওয়া-দাওয়া দিয়ে পুষে কোন লাভ নেই।রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়।  দুর্নীতিবাজরা মানবাধিকার পাওয়ার যোগ্য নয়।

 তিনি গত ১৪ই ডিসেম্বর বিকালে ঢাকা মহানগর আহবায়ক কমিটি গঠন উপলক্ষে সেক্টর- ১২, উত্তরার নবনীল কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে দুর্নীতি চিন্তার বাহিরে  চলে গেছে।দুর্নীতির বিরুদ্ধে  ও দুর্নীতি নিবারণে আমাদেরকে নিরলস ভাবে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি বিরোধী প্রবন্ধ,  কবিতা, রচনা,  সভা সমাবেশ,মিটিং মিছিল ও আলোচনা সভা চালিয়ে যেতে হবে। বিচারপতি আবদুর রউফ বলেন, অন্যান্য দেশে আসামিদেরকে প্রমাণ করতে হয় সে নির্দোষী। আমাদের দেশে বাদীকে প্রমাণ করতে হয় আসামি দোষী। তাই বিচার ব্যবস্থায় এত দীর্ঘসূত্রতা।

 তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে গণতন্ত্র নেই।ভোট সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোটাধিকার প্রয়োগে মানুষের স্বতুস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন আজ থেকে ৩০ বছর আগে সাড়ে তিনশ কোটি টাকা  ব্যয়ে একটি  প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। এতে নির্বাচন কমিশনের জন্য ২ হাজার ৫০০ নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। গ্রামীন পর্যায়ে পর্যন্ত এই প্রকল্পের বিস্তৃতি ছিল। প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে হয়নি। ফলে দেশের নির্বাচন আজও প্রশ্নবিদ্ধ। 

দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লেখক ও  গবেষক সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে ফকিন্নির পোলারা কোটি কোটি টাকার  মালিক হয়েছে। চোর,বাটপার, চিটার ও চাকরেরা দেশের টাকা লুট করেছে। অনেকেই বিদেশে টাকা পাচার করেছে।তিনি বলেন, দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। একথা আমরা ভুলে গেছি। এই সংগঠনের সাথে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা, দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে জড়িত করা যাবে না। জুলাই- আগস্টের আন্দোলনে দেশের মানুষ হত্যাকান্ড শিকার হয়েছে, আহত হয়েছে,লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  কিন্তু এখন দেশে তামাশা শুরু হয়েছে।সরকার  দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ  করতে পারছে না। শুরু হয়েছে ঘুষ,দুর্নীতি, চাঁদাবাজি,দখলদারীসহ নানাবিধ দুষ্কর্ম  ও দুর্বৃত্তন। এদের কাছ থেকে পরিত্রাণ পেতে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে  আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে, সেই সাথে দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করতে হবে।

এড. হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, ঢাবির আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ মাইমুল আহসান খান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজা, ড. আব্দুল হক তালুকদার, ঢাবির অধ্যাপক ড. মোঃ শামসুদ্দিন, উইং কমান্ডার আমিনুল ইসলাম(অবঃ), লেঃ কর্নেল খন্দকার ফরিদুল আকবর(অবঃ), পারভীন নাসের খান ভাসানী, মোঃ হাবিবুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন, নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী,শওকত আলী খান, সেলিনা আক্তার শ‍্যামলী, আদিনা খান, এ‍্যানী, এম এম সাদ প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মোঃ মিজানুর রহমান, জিটিসিএলের জিএম প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, মানবাধিকার সংগঠক ড. মোহাম্মদ নিজস্ব উদ্দিন, ঢাকা স্পেশালাইজড হসপিটাল লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ফিনিক্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, টিএনজেড গ্রুপ অব কোম্পানিজের পরিচালক মোঃ সৈয়দ মফিজ উল আলম, থ্রি স্টার হাউজিং লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ মোজাম্মেল হক, বিএলডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য এস. এম. আমানউল্লাহ, এফবিসিসিআইয়ের এস এম সালাউদ্দিন, অধ্যক্ষ মানিক চৌধুরীসহ বিশিষ্টজন।

সম্মেলনে শেষে এড. হুমায়ন কবির ভুঁইয়া’কে আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, উইং কমান্ডার মীর আমিনুল ইসলাম(অবঃ) বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের মন্ডল, শওকত আলী খান, এস কে ইসলাম, সৈয়দ আব্দুল মুয়ীদ, প্রকৌশলী ড. লুৎফর রহমান, গেরিলা লিড়ার ড. শফিকুল ইসলাম কানু, আমিরুল ইসলাম, ড. শরীফ সাকি ও মনোয়ার শামসী সহ ১১ জন যুগ্ম-আহবায়ক এবং আবুল কালাম আজাদকে সদস্য সচিব করে মোট ৩৩ সদস্যে’র আহবায়ক কমিটি বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ ঘোষনা করেন।

সম্মানিত সদস্যগণ মেজবাউদ্দিন মোঃ জীবন চৌধুরী, অধ্যাপক এম সাইফুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, ওবায়দুল হক, সেলিনা আক্তার শ‍্যামলী, নাফিজ মাহবুব, আজিজুর রহমান, আব্দুল কাদের, আনোয়ারুল উলুম, আনোয়ার হোসেন (১৩ নং সেক্টর কল‍্যাণ সমিতি) মীর মেহেদী হাসান মাসুদ, আদিনা খান, মনিষা মাফরুহা, হারুনূর রশীদ তারেক, ফিরোজ আলম, শামীম আহমেদ, মোঃ খলিলুর রহমান, উম্মে মাহজাবীন শৈলী, এম এম সাদ, এ‍্যানী।