উজানের পাহাড়ি ঢল আর কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ৫টি উপজলোর নদী তীরবর্তি পায় ২৫ হাজার পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে, রেল লাইন, আমন ধান ও বিভিন্ন সবজি ক্ষেত।
বরিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টা হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০৭ মিটার, (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ মিটার) যা বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে কাউনিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ২৯ দশমিক ৬৮ মিটার, (স্বাভাবিক ২৯ দশমিক ৩১ মিটার) যা বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদী তীরবর্তি অঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ করে প্লাাবিত হয়েছে। বামতীরের জেলা লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার। আতংকিত হয়ে পড়ছে তিস্তাপাড়ের মানুষ।
বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র ও নদী তীরবর্তি এলাকাবাসী জানান, ভারতে সিকিমে উৎপত্তিস্থল থেকে ভারতে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তিস্তা নদী। বর্ষাকাল শুরু হওয়ায় উজানে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় ভারত তাদের অতিরিক্ত পানি বাংলাদেশ অংশে ছেড়ে দেয়। এই উজানের ঢল ও ভাড়ি বর্ষনে তিস্তার পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই বর্ষাকাল শুরু হলেই তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয় পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে। টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বেড়ে যায়।
নদী তীরবর্তী এলাকার বেশ কিছু রাস্তাঘাট ব্রিজ কালভার্ট ভেঙে গেছে পানির তোরে। উঠতি আমন ধান ও বিভিন্ন সবজি ক্ষেত ডুবে আছে বন্যার পানিতে। দীর্ঘ সময় ডুবে থাকলে এসব ফসলের মারাত্মক ক্ষতির শঙ্কা করছেন চাষিরা। একই সঙ্গে বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গেছে বেশ কিছু পুকুরে মাছ। মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে সলেডি স্প্যার বাঁধসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো। বাঁধ ভেসে যাওয়ায় শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ভাটিতে থাকা শত শত পরিবার।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনিল কুমার বলেন, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজানরে পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধী পেয়ে নদী তীরবর্তি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ও সড়ক ভেঙে নতুন এলাকা প্লাবিত না হয় এ জন্য নজরদারী করে ইতোমধ্যে জিও ব্যাগ দিয়ে তা রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, নদী তীরবর্তি এলাকার কিছু কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী খুব দ্রæত পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। বন্যা মোকাবিলা করতে জেলা-উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।