রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


প্রকাশ :

শনিবার (৩০ নভেম্বর) বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় যাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘নদী আইন বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ নদীগুলোকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করলেও নির্দেশনাটি বাস্তবায়নে জটিলতা রয়েছে। ১৯২৬ সালের সিএস খতিয়ান অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সেই রেকর্ড অনুযায়ী উচ্ছেদ করতে গেলে শত বছরের জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটি বাস্তবসম্মত নয়।

সংগঠনের নেতাদের নতুন করে ভাববার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা খুবই কঠিন কারণ আদালত নির্দেশনাটি দিয়েছিল আবেগের বশবর্তী হয়ে। অবশ্যই নতুন রেকর্ড আরএস ও বিএস অনুসরণ করে নদীর সীমানা নির্ধারণে পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

এ সময় তিনি আরও বলেন, জনমত তৈরি করে প্রশাসনকে সহায়তা করে নদী রক্ষা করতে হবে। প্রতি জেলায় জনমত গড়ে তুলতে হবে। নদী দখলকারীদের নামের তালিকা তৈরি করে সরকারকে জানাতে হবে। আদালতে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে এসব অবৈধ দখলদারদের নির্বাচনসহ সবক্ষেত্রে অযোগ্য করা হবে। এজন্য নতুন করে প্যানটোগ্রাফ করে কাজ করতে হবে।

অবিলম্বে চীনের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর ও চীনের মাধ্যমে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে অধ্যাপক মো. আনোয়ার সাদত বলেন, ২০০৫ সালে গঠিত হয়ে অদ্যাবধি নদী রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন। তিস্তা চুক্তি হওয়ার পর সব ট্রান্সবাউন্ডারি নদী সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পদক্ষেপ নিতে হবে।

সিনিয়র সহ-সভাপতি গেরিলা লিডার ড. এস এম শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘে পানি প্রবাহ আইন প্রণয়ন করা হয়। বাংলাদেশ সরকার বিগত ২৭ বছরেও এই আইনে অনুস্বাক্ষর করেনি। ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানিপ্রবাহ বিষয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হতে পারছে না। তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি জাতিসংঘ প্রণীত পানি প্রবাহ আইনে অনুস্বাক্ষর করার আহ্বান জানান।

কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, নদী আইন বাস্তবায়ন ছাড়া নদী রক্ষা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কাজেই নদী আইন বাস্তবায়নে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং নদী আদালত গঠন করতে হবে।

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মো. আনোয়ার সাদতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার আমিনুল হক টুটুল, ইকরাম এলাহি খান সাজ, প্রকৌশলী ড. মো. লুৎফর রহমান, কর্নেল (অব.) ডা. মো. আনোয়ার হোসেন, ড. আব্দুল হালিম পাটোয়ারী, ব্যারিস্টার কাজী আক্তার হোসাইন, এ কে এম সিরাজুল ইসলাম, মিহির বিশ্বাস, ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. শহীদুল্লাহ, মো. তাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. ইফতেখারুল আলম মাসুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কালিমুল্লাহ ইকবাল, ঢাকা মহানগর সভাপতি মহসীনুল করিম লেবু, সাংবাদিক রফিক মোল্লা, কবি জামান ভূঁইয়া, খন্দকার হাসিবুর রহমান, শামীম মোহাম্মদ, হাসিবুল হক পুনম, মো. শহীদুল্লাহ ও অ্যাডভোকেট নদী।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. বোরহান উদ্দিন অরণ্য।