শহিদ আবরার ফাহাদের ৭ম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের পাদদেশে আলোচনা সভা করেছে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ। আলোচনা সভায় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ভারতের সাথে কোন ধরনের বৈরিতা বা শত্রুতা আমাদের প্রত্যাশা নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের স্বার্থ সুরক্ষা হচ্ছে কিনা, আমাদের সাথে ভারতের অভিন্ন অনেকগুলো নদী রয়েছে। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুসারেও এই নদীর ন্যায্য হিসসা বাংলাদেশের গত ৫০ বছরেও বাংলাদেশ পায়নি। ভারত ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করে গঙ্গার পানি সে নিজে নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশের জনগণকে শোষণ করার একটা হাতিয়ার হচ্ছে এই ফারাক্কা ব্যারেজ।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এ বছর ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আবরার ফাহাদ যেটা চেয়েছিলে সেটা বাস্তবায়ন করার সময় এখন এসেছে। ভারত যে ৫ আগস্টের পর থেকে বলে আসতেছে বাংলাদেশের সাথে তারা সম্পর্ক চায়, বাংলাদেশকে তারা প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চায়, সেটা প্রমাণ করতে হবে যে ভারত বাংলাদেশ এই নতুন গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি আবার কিভাবে হচ্ছে।আমাদের আজকে সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে এটা শুধু নবায়ন করলেই হবে না, এই পানি বন্টন চুক্তি নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষরিত করতে হবে।’
শহিদ আবরারকে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আবরার ফাহাদ আমাদের কাছে জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আবরার ফাহাদ জাতীয় স্বার্থের পক্ষে, বাংলাদেশ যেন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পায় সেজন্য লেখালেখি করেছিলেন। আমরা যে দাস নই, এটা আবরার ফাহাদ দেখিয়েছিলেন।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ আওয়ামীলীগ যে ভারতের এক্সটেনশন, আওয়ামীলীগ যে এখানে ভারতের কারণে ক্ষমতায় ছিল, এটা স্পষ্ট হয়েছিল আবরার হত্যার মধ্য দিয়ে। কারণ আবরার হাসিনা কিংবা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কিছু লিখেনি, লিখেছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। এজন্য তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়’
আবরার ফাহাদের বিচারের রায় কার্যকর না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। আলোচনায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাতসহ আবরার ফাহাদ স্মৃতিসংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।