বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ মতামত

আজকের বাস্তবতা ও সম্ভাবনা


প্রকাশ :

আজকের বাস্তবতা ও সম্ভবনা যেমন দেখা যাচ্ছে এবং তাতে মনে হচ্ছে সবকিছু শান্ত আছে এবং ভালো চলছে। কিন্তু অবস্থা কী আসলেই তা? 

সাম্প্রতিক সময়ে খুন-খারাপি, হত্যা, আত্মহত্যা, নারী নির্যাতন  ও ধর্ষণ সমাজে হচ্ছে। ড. ইউনুস অন্তর্বর্তী সরকারে ক্ষমতায় বসার পর দুর্ধর্ষ পেশাদারী কিলার ও জঙ্গিদের জেল থেকে মুক্তি দিয়ে সমাজে এক ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত দুই বছর ধরে সমাজে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। খুন-খারাপি, হত্যা, আত্মহত্যা, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ যেভাবে বেড়েছে তাতে সমাজ বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত পত্রিকার পাতা খুললেই  চোখে পড়ে হত্যা, আত্মহত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনা। 

আওয়ামী লীগ  সরকারের পতনের পর থেকে লক্ষ করা যাচ্ছে যে, যারা মাদ্রাসায় ইসলামিক নৈতিক মুল্যবোধের শিক্ষা দিচ্ছে তাদের নিকট থেকে নিষ্পাপ অবলা শিশুরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। যা জাতির জন্য অশনি সংকেত। ইসলামিক মূল্যবোধের ওপরও আঘাত আনছে এবং অন্য সম্প্রদায়েরও ঘৃনার প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতির কারণে ঢাকা শহরসহ সারাদেশে হত্যা, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, সশস্ত্র  ছিনতাই ও ডাকাতি ব্যাপক হারে বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক। রাজধানীতে গত চার মাসে ৭৮ জন হত্যার শিকার হয়েছে। বেকারত্ব, মাদকসেবন, অপরাধচক্রের বিস্তার এবং  দুর্বল নজরদারি এ ধরনের  অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। 

বর্তমান সমাজে মানুষের পারস্পারিক অবস্থা খুবই দুর্বল। অসহিষ্ণুতা অনেক বেশি। সমাজে ও পরিবারের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন খুঁজেই পাওয়া যায় না। প্রত্যেক পরিবারেই অস্থিরতা বিরাজ করছে। সমাজে ও পরিবারে মধ্যে  সম্প্রীতির অভাব রয়েছে।  কাম ও লোভ-লালসা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিশোধ ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেও টার্গেট হচ্ছে শিশুরা। মাদকসেবন, পারিবারিক বন্ধনহীনতা এবং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবে নিকটাত্মীয়দের হাতেও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে শিশু। যার কারণে পারিবারিক কলহের বলি হচ্ছে নারী ও শিশুরা।   

সাম্প্রতিক ঘটনা  ৮ মে   দিবাগত রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় কুখ্যাত ঘাতক  ফোরকান তার স্ত্রী ও তিন শিশুসন্তানসহ পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এই লোমহর্ষক ঘটনা সারা বিশ্ববাসীর হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশকেন্দ্রের পরিসংখ্যান তথ্যমতে পারিবারিক সহিংসতায় গত ১৫ মাসে  (২০২৫ জানুয়ারি থেকে চলতি মার্চ পর্যন্ত) অন্তত ৪৯৮ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। এ সময় ধর্ষণসহ চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১১৬৫ শিশু। এমনকি বগুড়ায় একদিনের  নবজাতক শিশুকে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করেনি মা ও সৎবাবা। 

মানুষের স্বভাবজাত চাহিদা অসীম। মানুষের মননজগতে সীমাহীন চাহিদার কারণে দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। পৃথিবীর সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই অপরাধ ও দূর্নীতি আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।। অপরাধ ও দুর্নীতি একেবারে নির্মূল করা যাবে না। আইনের শাসনেরও অভাব রয়েছে। আইনের শাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে অপরাধ ও দুর্নীতি পর্যায়ক্রমে কমানো সম্ভব হবে। 

মানুষের জীবিকার অবস্থা সন্তোষজনক নয়। বেকারত্ব আছে। কর্মসংস্থানেরও অভাব রয়েছে । অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন কোনো কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়নি। বরং ইউনুসের শাসনকালে বিজিএমই এর তথ্যমতে প্রায় ৪০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে বর্তমানে বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এক কোটির বেশি মানুষ বেকার আছে।  ইউনুসের থ্রি জিরো তত্ত্ব কোনো কাজে আসেনি তাঁর শাসনামলে।  শূন্য শূন্য যোগফল শূন্যই হয়। তাই ইউনুসের থ্রি জিরো তত্ত্ব শূন্যই হবে। সমাজ পরিবর্তনে কোনো কাজে আসবে না। 

সাম্প্রতিক সময়ের বাস্তবতায় সমাজে যে সব সমস্যা দেখা দিয়েছে তার কারণ আমাদেরকেই নির্ণয় করতে হবে এবং সমস্যাগুলো সমাধানের উপায় কী?  তা সমাজবিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্য তৈরি করে এর সমাধান করতে হবে সর্বজনীন কল্যাণে। সুষ্ঠু অবস্থা তৈরি করে এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। সম্প্রীতিময় অবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক চরিত্রের উন্নতি হলে নৃশংস সহিংসতা কমে যাবে।  স্কুল-কলেজে ধর্মীয় মূল্যবোধ শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ ও মেডিটেশন বিষয়ে শিক্ষা চালু করতে হবে। রাজনীতিক দল, জাতীয় সংসদ ও সরকার এই তিনটিকেই পরিপূর্ণ গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তুলতে হবে এবং সক্রিয় রাখতে হবে। এই তিনটির কোনোটিই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। 

আজকের বাস্তবতা যেমন অনেক কঠিন, তেমনি  সম্ভাবনাও অনেক বেশি। অন্ধকার আছে বলেই আলো দেখা দিবে। সেই  নতুন আলোর প্রত্যাশায় গোটাজাতি।