বিশ্বজুড়ে নতুন ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে এই ভাইরাস মূলত গবাদিপশুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে মানুষের শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত এটি মানুষের মধ্যে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
World Health Organization জানিয়েছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের চারটি ধরন রয়েছে— এ, বি, সি এবং ডি। এর মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি প্রধানত গবাদিপশু, বিশেষ করে গরুর শরীরে পাওয়া যায়। গবেষণায় কিছু ক্ষেত্রে পশুপালন খাতের কর্মীদের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি শনাক্ত হওয়ায় বিজ্ঞানীরা বিষয়টি নিয়ে আরও সতর্ক হয়েছেন।
গবেষকদের মতে, ভাইরাসটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। যদিও এখন পর্যন্ত মানুষের মধ্যে স্থায়ীভাবে একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বর্তমানে প্রচলিত ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস মানবদেহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে— এমন প্রমাণ নেই। তবে প্রাণী ও মানুষের সংস্পর্শস্থলে ভাইরাসের পরিবর্তন এবং নতুন বৈশিষ্ট্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আন্তর্জাতিকভাবে নিবিড় নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, খামার বা পশুপালন পরিবেশে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ানো প্রয়োজন। সংক্রমণ এড়াতে অসুস্থ প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে ইনফ্লুয়েঞ্জার নতুন সাব-ক্ল্যাড ‘কে’ ধরন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করেছেন, এই ভাইরাস এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি এক নয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসগুলোর ওপর গবেষণা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।