বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত বক্তব্য তুলে ধরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ মানবতার রাজনীতির অনুপস্থিতি। তার দাবি, ভোট প্রক্রিয়ায় লুটেরা কিংবা জালিম শাসক উদ্ভবের পেছনে কারণ ভোট নয়, বরং রাজনীতির নৈতিক ভিত্তির ভাঙন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হতে হলে আগে স্বীকার করতে হবে—রাষ্ট্র সব মানুষের, জীবন ও জীবনের স্বাধীনতা সবার অধিকার। মানবতার রাজনীতি, সর্বজনীন গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রকে একক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে না যাওয়ার অঙ্গীকারই একটি রাজনৈতিক দলের মৌলিক শর্ত হওয়া উচিত। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বা গণতন্ত্রের নামে রাষ্ট্রকে কোনো একক মতবাদ বা গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।
আল্লামা ইমাম হায়াতের ভাষায়, রাজনৈতিক দল হতে হলে জীবন নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, অধিকার ও সমমর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রতি স্পষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে। জীবনবিরোধী এবং রাষ্ট্রবিরোধী একক গোষ্ঠীবাদী অপরাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান না নিলে তা প্রকৃত রাজনীতি নয়।
তিনি বলেন, “ভোটের মাধ্যমেও লুটেরা জালিম আসে, কিন্তু এর কারণ ভোট নয়—মানবতার রাজনীতির শূন্যতা। তাই ভোট বর্জন সমাধান নয়, সমাধান হচ্ছে রাজনীতির সংস্কার।”
তার মতে, ভোট ছাড়া জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয় না, রাষ্ট্রের মালিকানা ও নাগরিক অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হয় না। ভোট বা নির্বাচন অস্বীকার মানে জনগণের রাষ্ট্রীয় অধিকার অস্বীকার করা, যা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে স্বৈরতন্ত্রে পরিণত করে। তবে মানবতার রাজনীতি অনুপস্থিত থাকলে ভোট পরিণত হয় ক্ষমতাদস্যুর ভাগবাটোয়ারায়, আর নির্বাচন হয়ে দাঁড়ায় একক গোষ্ঠীর রাষ্ট্র দখলের অস্ত্র।
তিনি রাষ্ট্র কাঠামো থেকেই একক ধর্মভিত্তিক বা বস্তুবাদী জাতীয়তাবাদের একক গোষ্ঠীবাদী স্বৈররাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।
আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, রাষ্ট্র কোনো এক ধর্ম, এক মতবাদ, এক জাতি বা এক দলের নয়—রাষ্ট্র সবার। সব মানুষের জীবনকে রাজনৈতিক ভিত্তি না করলে মানবতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয় না। মানবতার রাজনীতি ছাড়া বাকি সব রাজনীতিই মানবতাবিরোধী স্বৈরশাসন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, মানবাধিকার বাস্তবায়নের কাঠামোর নাম হলো মানবতার রাষ্ট্র—খেলাফতে ইনসানিয়াত। তিনি বলেন, “মানবতার রাজনীতি ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। গণতন্ত্রের নামে একক গোষ্ঠী যখন রাষ্ট্র দখল করে, তখন তা গণতন্ত্র থাকে না, পরিণত হয় স্বৈরদস্যুতন্ত্রে।”