মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হাতীবান্ধার বীর সেনানী প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের জন্মদিন আজ। মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম কমিটি, হাতীবান্ধা, ১৯৭১-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই মুক্তিযোদ্ধার সাহসিকতা ও ত্যাগের নানা ঘটনা আজও স্মরণীয়। তবে সময়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই তাঁর অবদান অনেকটাই অজানা হয়ে পড়েছে।
১৯৭১ সালের ৯ মার্চ যখন স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল পুরো দেশ, তখন রাজশাহী থেকে হাতীবান্ধায় ছুটে আসেন প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম। কয়েকজন সহযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হাতীবান্ধায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তাঁর উদ্যোগ ও নেতৃত্বে হাতীবান্ধার প্রায় ১৬ শত মুক্তিকামী তরুণ ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে তারা দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে অংশ নেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর অগ্রযাত্রা রুখে দিতে ভোটমারীর ঐতিহাসিক ভাকারি ব্রিজ ধ্বংসের অভিযানেও প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে জানা যায়। নিজের জীবন বাজি রেখে বিস্ফোরক ব্যবহার করে রেলসেতুটি ধ্বংস করার মাধ্যমে শত্রু বাহিনীর অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা করেন তিনি।
তবে মুক্তিযুদ্ধে এমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সময়ের সঙ্গে প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের অবদান অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নানা কারণে দীর্ঘদিন তিনি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন আয়োজন থেকে উপেক্ষিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তিত্বের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ তাঁর জন্মদিনে মুক্তিযুদ্ধের সেই সাহসী ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।