২০১৩ সালের রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে আগামী ৭ জুন তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রসিকিউশনের আবেদনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে সকালে প্রিজনভ্যানে করে ডা. দীপু মনি, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। গত ৭ মে ট্রাইব্যুনাল তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিল।
তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহত ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে অভিযানের সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ডা. দীপু মনি। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বক্তব্য দেন তিনি। এছাড়া হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে ঘিরে একাত্তর টেলিভিশনে উসকানিমূলক প্রচারণা চালানোর অভিযোগ আনা হয় সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে। সে সময় মোজাম্মেল বাবু একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ফারজানা রুপা প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানায় প্রসিকিউশন।
এ মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকা অন্য আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।