বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

মন্দির ঘটসংকল্প ও প্রসাদ তৈরিতে নারিকেলের বিকল্প নেই দুর্গাপূজায় 


প্রকাশ : (৭ ঘন্টা আগে)
মন্দির ঘটসংকল্প ও প্রসাদ তৈরিতে নারিকেলের বিকল্প নেই দুর্গাপূজায় 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে নানা আয়োজন চলছে। তবে পূজা উদ্‌যাপনে নারিকেলের গুরুত্ব অপরিসীম। মন্দিরে ঘটসংকল্প, প্রসাদ ও নাড়ু তৈরিতে নারিকেলের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

প্রতিটি বাড়িতে নারিকেলগাছ না থাকা কিংবা প্রয়োজনের তুলনায় ফলন কম হওয়ায় বিশেষ করে শারদীয় দুর্গাপূজায় বাজারে নারিকেলের চাহিদা বেড়ে যায়।

ক্রেতারা জানান, আগে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই নারিকেলগাছ ছিল। বর্তমানে অধিকাংশ বাড়িতে নারিকেলগাছ নেই। আবার কিছু বাড়িতে গাছ থাকলেও ফলন কম। ফলে পূজার প্রয়োজন মেটাতে বাজার থেকে নারিকেল কিনতে হচ্ছে।

তাঁরা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নারিকেল বাজারে না এলে বাড়তি দাম দিয়েও চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ত।

রাজারহাট বাজারে ভ্যানগাড়িতে নারিকেল বিক্রি করেন সনজিত কুন্ডু। তিনি বলেন, পূজা উপলক্ষে নারিকেলের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে আকারভেদে প্রতি জোড়া নারিকেল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি করছেন। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি। আগে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় নারিকেল কিনে কম দামে বিক্রি করতেন। বর্তমানে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় কিনে ১৬০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি করছেন।

ছিনাই ইউনিয়নের ছিনাই গ্রামের বাসিন্দা সনজিত কুন্ডু স্বর্গীয় ফেলু কুন্ডুর সন্তান। তিনি বলেন, আট বছর ধরে ভ্যানগাড়িতে গ্রামগঞ্জে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা ও আমড়াসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল বিক্রি করছেন। দুর্গাপূজা সামনে রেখে এখন বিভিন্ন স্থান থেকে নারিকেল কিনে বিক্রি করছেন।

ক্রেতা দশরত চন্দ্র বর্মন বলেন, পূজায় নারিকেলের বিকল্প নেই। তিনি এক জোড়া নারিকেল ২৪০ টাকায় কিনেছেন। তাঁর ছেলে রাজশাহী থেকে ১০ জোড়া নারিকেল কিনেছেন বলেও জানান তিনি।

লালমনিরহাট জেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রবীণ নারিকেল ক্রেতা অমেন চন্দ্র রায় (৬৫) বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারিকেল কিনতে রাজারহাট বাজারে এসেছেন। পূজায় আত্মীয়স্বজন আসবেন। তাঁদের নাড়ু খাওয়াতে হবে। এ জন্য পূজা উপলক্ষে ১০ থেকে ১৫ জোড়া নারিকেল প্রয়োজন হবে।

রাজারহাট ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের নারিকেল আমদানিকারক মনিরুজ্জামান বুলু বলেন, নোয়াখালী, খুলনা ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নারিকেল কিনে আনেন তাঁরা। এবার ২০০ টাকা দরে ৫ হাজারটি নারিকেল কিনে ট্রাকে করে এনেছেন। এগুলো ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ছোট আকারের নারিকেল বিক্রি করছেন প্রতি জোড়া ২০০ টাকায়। গত বছরও দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারিকেল আমদানি করেছিলেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার আড়তে নারিকেলের দাম বেশি।

রাজারহাট মধ্যবাজারের নারিকেল ব্যবসায়ী শ্রী অশোক চন্দ্র বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিনি রংপুর থেকে ১২০টি নারিকেল কিনে এনেছেন। প্রতিটি নারিকেল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা দরে কিনেছেন। বর্তমানে খুচরা বাজারে বড় আকারের নারিকেল প্রতি জোড়া সর্বোচ্চ ২৮০ টাকা, মাঝারি আকারের ২২০ টাকা এবং ছোট আকারের নারিকেল ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন। সারা বছরের তুলনায় দুর্গাপূজায় নারিকেলের চাহিদা অনেক বেশি বলে জানান তিনি।

রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের বানেশ্বর নীলকণ্ঠ ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামের পুরোহিত শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, শুক্রবার সকালে ষষ্ঠীর ঘটসংকল্প পূজায় নারিকেল প্রয়োজন হবে। এরপর পূজার সংকল্পসহ বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে প্রতিদিন নারিকেল লাগবে। আমন্ত্রণ ও অধিবাস থেকে শুরু করে নবমী পর্যন্ত নারিকেলের প্রয়োজন রয়েছে। পূজার প্রসাদ তৈরিতেও নারিকেলের বিকল্প নেই। এ ছাড়া পূজায় খণ্ড নারিকেল ও নারিকেলের জল প্রয়োজনীয় উপকরণ। তিনি রাজারহাট ইউনিয়নের ছাটগ্রাম সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করবেন।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মায়দুল হাসান বলেন, পরিবারের চাহিদা পূরণে বাড়ির আশপাশে অন্তত একটি নারিকেলগাছ রোপণ করা উচিত। গাছ রোপণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে।

তিনি জানান, একটি নারিকেলগাছে বছরে দুইবার সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩০ কেজি গোবর বা কম্পোস্ট সার, ১ কেজি ইউরিয়া, ৬০০ গ্রাম টিএসপি, ১ কেজি এমওপি, ৫০০ গ্রাম জিপসাম, ৫০ গ্রাম জিংক সালফেট এবং ৫০ গ্রাম বোরিক অ্যাসিড প্রয়োগ করতে হবে। প্রথমবার এপ্রিল থেকে মে মাসে বার্ষিক সারের অর্ধেক এবং দ্বিতীয়বার সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে বাকি অর্ধেক সার প্রয়োগ করতে হবে।

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, চারা রোপণের পর জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সার প্রয়োগের জন্য গাছের গোড়া থেকে এক থেকে দেড় মিটার দূরে ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার গভীর গোলাকার নালা তৈরি করতে হবে। এরপর গোবর ও রাসায়নিক সার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে নালায় ছড়িয়ে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। মাটিতে রসের ঘাটতি থাকলে সেচ দিতে হবে। গাছের পাতার নিচে কালো দাগ দেখা দিলে ছত্রাকনাশক ও সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করতে হবে। এতে নারিকেলের ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

বিজ্ঞাপন