রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ বিশেষ সংবাদ

ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, সচেতনতা বাড়ছে ব্যবহারকারীদের মধ্যে


প্রকাশ :

বাংলাদেশ এখন দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের পথে। তবে ইন্টারনেটের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে গোপনীয়তা লঙ্ঘন, সাইবার প্রতারণা ও অনলাইন হয়রানির ঝুঁকিও বেড়েছে। একসময় অবহেলিত যে বিষয়টি, এখন তা হয়ে উঠেছে ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা—ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে মেসেজিং অ্যাপ—সব ক্ষেত্রেই এখন মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। কে তাদের তথ্য দেখতে পারে, কোথায় তা ব্যবহৃত হচ্ছে—এসব নিয়ে ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় অনেক সতর্ক হচ্ছেন। একই সঙ্গে, যে সব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের তথ্য নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেয়, সেগুলোর প্রতি আস্থা ও ব্যবহারও বাড়ছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। বর্তমানে ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারের ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। তবে ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার পর এক পর্যায়ে হ্যাকিং, ছবি বা ভিডিও ফাঁসের মতো ভয়াবহ অপরাধও বেড়ে যায়, যা মানুষকে তথ্য সুরক্ষায় আরও সতর্ক করেছে।

শুধু সাধারণ ব্যবহারকারী নয়, ফ্রিল্যান্সার ও পেশাজীবীরাও এখন ক্লায়েন্টের চুক্তি ও সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদ রাখার বিষয়ে সচেতন হচ্ছেন। নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে অনেকেই এমন প্ল্যাটফর্ম বেছে নিচ্ছেন, যেখানে তথ্য সুরক্ষার জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা ও স্বচ্ছ নীতিমালা।

উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলো ইমো। যোগাযোগের বাইরে গিয়ে এখন এটি হয়ে উঠেছে একটি নিরাপদ যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম। অ্যাপটিতে যুক্ত হয়েছে ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’, ‘সিকিউর লগইন’, ও ‘অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন’-এর মতো ফিচার। ফলে ব্যবহারকারীদের কল ও চ্যাট থাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত, যেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষ, এমনকি ইমো কর্তৃপক্ষও প্রবেশাধিকার পায় না।

এছাড়া ‘প্রাইভেসি মোড’ ব্যবহারকারীদের নিয়ন্ত্রণ দেয় কে তাদের প্রোফাইল বা তথ্য দেখতে পারবে। ‘ডেটা সেফটি সার্টিফিকেশন’ ও ‘স্ক্রিনশট ব্লক’ ফিচারের কারণে কেউ ভিডিও কল বা চ্যাটের সময় স্ক্রিনশটও নিতে পারে না।

আজকের দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভিডিও কলিং অ্যাপ শুধু বিনোদনের জায়গা নয়—এগুলো কাজ, ব্যবসা ও শিক্ষারও অংশ হয়ে উঠেছে। তাই অনলাইন নিরাপত্তা এখন শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, বরং ব্যক্তিগত সক্ষমতার প্রতীক। সচেতন ব্যবহারই পারে এই ডিজিটাল যুগকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে।