বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ এখন এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেশে বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় পাঁচভাগের একভাগই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
‘ননপারফর্মিং লোনস ওয়াচ ইন এশিয়া ২০২৫’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে উঠে আসে, শুধু এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। এডিবি বলছে, ঋণ আদায়ে দুর্বলতা এবং নিয়মকানুন শিথিল হওয়ার কারণে বাংলাদেশ এখন এশিয়ার সবচেয়ে নড়বড়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থার দেশ।
অন্যদিকে প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা খেলাপি ঋণ কমাতে সক্ষম হয়েছে। ভারতের মতো বড় অর্থনীতিও ব্যাংকিং খাতে সংস্কার এনে খেলাপি ঋণ ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে নামিয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নিয়ে এসেছে। নেপালে সামান্য বৃদ্ধি হলেও বাংলাদেশে গত এক বছরে খেলাপির হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ১১ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বহু বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, ঋণ পুনঃতফসিলের অপব্যবহার এবং দুর্বল নজরদারির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, আগের সরকার বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রকৃত খেলাপির অঙ্ক গোপন রেখেছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশ ব্যাংক বাস্তব চিত্র প্রকাশ করায় পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি ঋণ আদায়ে শক্ত পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তবে খেলাপি ঋণের বোঝা আরও বাড়বে। তাদের মতে, আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা, বিচারব্যবস্থা দ্রুততর করা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করলেই কেবল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।