বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ কর্মকারের বিরুদ্ধে। তার দেওয়া ভিসা ও বিমান টিকিট জাল প্রমাণিত হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ গত ২৫ মে লাওসগামী আটজন যুবককে ফেরত পাঠায়। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রবীন্দ্রনাথ কর্মকার দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দেন। তিনি দাবি করেন, তার মাধ্যমে লাওসে সরকারি অনুমোদিত কাজে যোগ দেওয়া সম্ভব। এজন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন তিনি। প্রথমে ঢাকার মোটাস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ট্রেনিং সেন্টারে দুই দফায় মোট ১৯ জনকে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেন। প্রতিজনের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নেন। ট্রেনিং শেষে ভিসা ও টিকিট দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
ভুক্তভোগী দুলু মিয়া জানান, “প্রথমে আমি ৪ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। পরে রবীন্দ্রনাথের ফোনে তার স্ত্রীকে আরও ৪ লাখ টাকা দিতে হয়। হরিশ্চন্দ্র কর্মকার উপস্থিত থেকে টাকা নেন। এরপর হাতে ভিসা ও টিকিট পাই। কিন্তু বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারি, সেগুলো জাল।”
ফেরত আসা যুবকরা অভিযোগ করেন, তাদের প্রতিজনের কাছ থেকে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জাল কাগজপত্র শনাক্ত করার পর আটজনকে ফেরত পাঠালে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
প্রতারিত যুবক আকাশ চন্দ্র (২৫) বলেন, “আমাদের সামান্য ভিটেমাটি আর মায়ের গহনা বিক্রি করে চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকারকে টাকা দিয়েছি। এখন সর্বশান্ত আমার পরিবার।”
অন্য ভুক্তভোগী ইব্রাহিম আলম সবুজ জানান, তিনি দুই দফায় মোট ৩ লাখ টাকা দিয়েছেন। “আমরা ভেবেছিলাম বৈধভাবে বিদেশে কাজ করতে যাব। কিন্তু সবই ছিল ফাঁকি। আমাদের সনদপত্র পর্যন্ত চেয়ারম্যানের কাছে রেখে দিয়েছেন।”
টিকিটে থাকা ফোন নম্বরে কথা হলে ঢাকার পল্টনের আল আব্দুল্লাহ এয়ার সার্ভিসের লোকমান বলেন, “এসব টিকিট আসল নয়, এগুলো বুকিং কপি। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা না দেওয়ায় বুকিং অটোমেটিক বাতিল হয়ে গেছে।” তিনি আরও জানান, রবীন্দ্রনাথ কর্মকারসহ কয়েকজন মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে এই বুকিং করা হয়েছিল।
রবীন্দ্রনাথ কর্মকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ছোট ভাই হরিশ্চন্দ্র কর্মকার বলেন, “আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত আছি। লেনদেন বা আলোচনায় আমার সম্পৃক্ততা নেই।”
স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগীরা এখন সর্বস্বান্ত। অনেকে ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা দিয়েছিলেন। প্রতারিত পরিবারের আহাজারিতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।